নেশা গ্রাস করছে যুবসমাজকে। হারিয়ে যাচ্ছে তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ। তাই এবার নেশা মুক্ত সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে পথে নামল প্রশাসন। স্কুল-কলেজের সামনে কোনভাবেই বিক্রি করা যাবে না নেশাজাত দ্রব্য। ইতিপূর্বেও এই ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই মতো কাজ এগোচ্ছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে ময়দানে নামলো পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। আচমকাই স্বাস্থ্য দপ্তর, পুলিশ এবং আবগারি দপ্তর যৌথভাবে ভরা কলেজ টাইমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশেপাশের বিভিন্ন দোকানে তল্লাশি অভিযান চালায়। এতে গোটা এলাকায় রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়।
প্রসঙ্গত, সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, স্কুল বা কলেজ ক্যাম্পাসের সীমানার ১০০ গজের মধ্যে কোনোরকম তামাকজাত দ্রব্য বিক্রি করা আইনত নিষিদ্ধ। কিন্তু নিয়ম থাকলেও সেসব মানা হচ্ছে না বেশিরভাগ জায়গাতে। অভিযোগ ওঠে, সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়েই কলেজ সংলগ্ন বিভিন্ন গুমটি ও দোকানে অবাধে বিক্রি হচ্ছে সিগারেট, গুটখা-সহ একাধিক নেশার সামগ্রী। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এইদিন কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় পুলিশ ও প্রশাসনের যৌথ প্রচেষ্টায়।
এই দিনের তল্লাশি অভিযানে বেশ কিছু দোকান থেকে নিষিদ্ধ তামাকজাত সামগ্রী উদ্ধার হয়। তাদেরকে আর্থিক জরিমানাও করা হয়। বেলদা কলেজ ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা ক্যান্টিনেও এইদিন তদন্ত করে দেখেন আধিকারিকরা। কলেজ ক্যাম্পাসের ভিতরে হঠাৎ করেই বিশাল পুলিশ বাহিনী ও আধিকারিকদের এই আগমনে রীতিমতো ঘাবড়ে যায় ছাত্র-ছাত্রীরা। সাধারণ মানুষের মধ্যে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, যুবসমাজকে নেশার গ্রাস থেকে মুক্ত করতে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সুস্থ ও স্বাভাবিক পরিবেশ রক্ষা করার উদ্দেশ্যে এই বিশেষ অভিযান। আগামী দিনে এই সমস্ত এলাকাতে যাতে নেশাজাত দ্রব্য বিক্রি না করা হয় সে তার জন্য করা বার্তা দেওয়া হয়েছে প্রশাসনের পক্ষ থেকে। আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান কড়াভাবে চলবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা।
যুব সমাজের ভবিষ্যৎ যাতে কোনোভাবেই নষ্ট না হয়ে যায় সেই কারণেই আগামীদিনের গোটা জেলা জুড়ে তামাক বিক্রির বিরুদ্ধে একাধিক সচেতনতা ও আইনি কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে বলে খবর প্রশাসন সূত্রে।