একটি সাধারণ গেষ্ট হাউজ। বাইরে থেকে দেখে মনে হবে আর পাঁচটা গেষ্ট হাউজের মতোই এইটি বাড়ি। দেখে বোঝার উপায় নেই ভিতরে লুকিয়ে রয়েছে কোটি কোটি টাকার পাহাড়। ওই গেষ্ট হাউজে প্রায় ১২ ঘণ্টা টানা তল্লাশির পর উদ্ধার হল ২ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। টাকা গুনতে আনতে হল ছ'টি কাউন্টিং মেশিন, বাজেয়াপ্ত হল তিন ট্রলিভর্তি নগদ, একটি গাড়ি ও একটি স্কুটি। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে এক মহিলা-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এইটা কার উৎস কি তা এখনো জানা যায়নি। রহস্যের উদঘাটন করতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
সোমবার পুলিশের অভিযানে নিউটনের ২০ নম্বর ট্যাঙ্ক সংলগ্ন বালিগাড়া এলাকার একটি গেস্ট হাউসে হানা দিতেই রীতিমতো চোখ কপালে ওঠে তদন্তকারীদের। একের পর এক ঘর থেকে বেরিয়ে আসে নোটের বাণ্ডিল। এত বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা গুনতে ঘটনাস্থলে নিয়ে আসা হয় ছ'টি টাকা গোনার মেশিন। দীর্ঘ সময় ধরে গণনার পর জানা যায়, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ২ কোটি ২৭ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা। শুধু নগদ অর্থই নয়, গেস্ট হাউসের সামনে থেকে একটি গাড়ি ও একটি স্কুটিও বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। বাজেয়াপ্ত হওয়া গাড়ি ও স্কুটির প্রকৃত মালিকের পরিচয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে পুলিশের পক্ষ থেকে।
এই ঘটনায় এখনো পর্যন্ত এক মহিলা-সহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে কয়েকজন ভিন রাজ্যের বাসিন্দা বলেও সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এই বিপুল অর্থের পিছনে কোনো প্রতারণার চক্রের যোগ থাকতে পারে। সূত্রের খবর, কল সেন্টারের আড়ালে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করে নিউটাউনের ওই গেস্ট হাউসে মজুত রাখা হতো। গোটা চক্রটি পরিচালিত হতো এমন নিখুঁত পরিকল্পনায়, যাতে স্থানীয় বাসিন্দাদের কারও মনে এতদিন কোনো সন্দেহই তৈরি হয়নি। তদন্তকারীদের একাংশের মতে, এই চক্রের কাজের ধরন জামতাড়া গ্যাংয়ের মডেলের সঙ্গে মিল রয়েছে।
ওই গেস্ট হাউজের মালিকের নাম হিসেবে উঠে এসেছে প্রসন্নকুমার রায় বলে এক ব্যক্তির নাম। ওই ব্যক্তির বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে এখনো পর্যন্ত কোনো কিছু জানা যায়নি। গেস্ট হাউস মালিকের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। নিউটাউনের বুকে কোটি টাকার এই গোপন ভাণ্ডার ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।