নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশন জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও গ্রেফতারির দাবিতে উত্তাল গোটা দেশ। কলকাতা-সহ দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ ও আন্দোলন চালিয়েছে কংগ্রেস ও বিভিন্ন বাম দল। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা মিছিলের পর আইএসএফের চেয়ারপারসন নওশাদ সিদ্দিকী ডেপুটেশন জমা দেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে।
মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে আপত্তি তুলে নির্বাচন কমিশনের সদর দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখান বামপন্থী দলগুলির নেতা-কর্মীরা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, SIR-এর মাধ্যমে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং সংশোধন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীরা কমিশনের দফতরের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যারিকেড তৈরি করা হয়। এরপর বেশ কয়েকজন বাম নেতা ও কর্মীকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। তাঁদের মধ্যে সিপিআই(এম)-এর সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবিও রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনকে ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বাকি দুই নির্বাচন কমিশনারকে না জানিয়েই একের পর এক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দুই কমিশনারের অভিযোগ, তাঁদের অন্ধকারে রেখে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটার তালিকার স্বচ্ছতা রক্ষা, এসআইআর-এর পর ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া এবং যুক্ত করা সংক্রান্ত একাধিক বিষয় নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী।
গত ১০ মাসে অন্তত ১৪ বার নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লিখিতভাবে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত তাঁদের অন্ধকারে রেখে নেওয়া হয়েছে। নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্তি, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া, বাদ পড়া নাম পুনরুদ্ধার সহ একাধিক বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তাঁরা। এরপর থেকেই
জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। কোথাও তাঁর ইস্তফা চেয়ে পথে নেমে চলছে বিক্ষোভ। কোথাও পোড়ানো হচ্ছে তাঁর কুশপুতুল। কেউ আবার পৌঁছে গিয়েছেন তাঁর বাসস্থানের সামনেও।
স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি জ্ঞানেশ কুমারের বাড়ির দেওয়ালে স্টিকার লাগিয়ে দেওয়া হয়। তেমনই জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবি তুলছেন বিরোধীরা। একই দাবি নিয়ে পথে নামছে ককরোচ জনতা পার্টি। সূত্রের খবর, সংসদের প্রস্তাবিত বিশেষ অধিবেশনের আগে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিরোধী শিবির। এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে জ্ঞানেশের বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছে মামলা।
