নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে যোগ দিতে সুপ্রিম কোর্ট থেকে যন্তর মন্তরের উদ্দেশে মিছিল করেছিলেন একদল আইনজীবী। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই তাঁদের আটক করল দিল্লি পুলিশ। শনিবার রাজধানীতে CJP-র প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার থাকার মধ্যেই এই ঘটনা সামনে এসেছে।
https://www.facebook.com/reel/2580491059133537
ককরোচ জনতা পার্টি (CJP) এবং অন্যান্য সংগঠনের ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল ওই আইনজীবীদের। নির্বাচন কমিশনের স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে কমিশনের কাছে জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছিলেন প্রতিবাদকারীরা। পাশাপাশি, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিও তুলেছিলেন তাঁরা।
পুলিশের অনুমতি না মেলায় যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত জমায়েত ঘিরে আগে থেকেই তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন করা হয় নিরাপত্তারক্ষী। একাধিক জায়গায় বসানো হয় ব্যারিকেড ও চেকপয়েন্ট। প্রতিবাদকারীরা যাতে নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছতে না পারেন, সে জন্য চলাচলের উপরও নজরদারি বাড়ানো হয়।
আইনজীবীদের এই মিছিলকে CJP-র প্রতিবাদের সমর্থনে বৃহত্তর সংহতি কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। নাগরিক সমাজের বিভিন্ন সংগঠন, সমাজকর্মী এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশও এই আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
শনিবারের ঘটনাপ্রবাহে এর আগেও পুলিশের পদক্ষেপ ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়। CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দলের দুই নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকাকে দিল্লি বিমানবন্দরে আটক করা হয়েছে বলে খবর সামনে আসে। প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিতে দিল্লিতে পৌঁছনোর পর তাঁদের আটক করা হয় বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
SIR প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মূল বিষয় হল ভোটার তালিকা সংশোধনের পদ্ধতি এবং যোগ্য ভোটারদের অধিকার। সমালোচকদের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যদিকে, এই পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার যুক্তিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির উপর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে প্রশাসন।
আটক আইনজীবীদের সঠিক সংখ্যা, তাঁদের পরিচয় এবং পরবর্তী সময়ে তাঁদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে কি না, সে সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সামনে আসেনি।
যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ ঘিরে পুলিশের কড়াকড়ি এবং একের পর এক আটকের ঘটনায় রাজধানীর পরিস্থিতি নিয়ে তৈরি হয়েছে নতুন করে আলোচনা। এখন নজর, আটক আইনজীবীদের বিষয়ে পরবর্তী কী তথ্য সামনে আসে এবং প্রস্তাবিত প্রতিবাদ কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত কোন দিকে এগোয়।
