একবার ভাবুন - আপনার রোগের চিকিৎসা করছেন একজন 'ফেল করা ডাক্তার!' না,ভুল পড়েননি। ঠিকই পড়েছেন। একদম এই ঘটনাটাই ঘটেছে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজে। অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে ফেল করা ছয় এমবিবিএস ছাত্রকে জোর করে পাশ করানোর নির্দেশ দেওয়ার মারাত্মক অভিযোগ উঠল হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষের বিরুদ্ধে। এই মর্মে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধান সমস্ত প্রমাণ ও কাটাকুটি করা ‘ট্যাবুলেশন শিট’ সহ স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন।
ঘটনার খবর অনুযায়ী, এনএমসি-র নিয়ম মেনে পর পর তিনটি পরীক্ষা ও রেমেডিয়াল ক্লাসের পরেও ছয় পরীক্ষার্থী প্রয়োজনীয় নম্বর ও উপস্থিতি অর্জন করতে ব্যর্থ হন। ফলে তাঁদের বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বসা আটকায়। অভিযোগ, গত ২৪ জুলাই নতুন অধ্যক্ষ দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভাগীয় প্রধানকে ডেকে পাঠান সুপার। ছাত্র আন্দোলনের ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে সুপার জানান, তাঁদের আবার পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং অন্য পরীক্ষক তা পরিচালনা করবেন। লাগাতার মানসিক চাপে পড়ে শেষ পর্যন্ত মূল শিটে পেন দিয়ে কাটাকুটি করে নম্বর ও উপস্থিতি বদলাতে বাধ্য হন ওই শিক্ষক-চিকিৎসক।
এর পাশাপাশি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২২ সালে মেডিক্যাল কাউন্সিল নির্বাচনে ফাঁকা ব্যালট জমা দিতে বাধ্য করা, ২০২৪-এ উত্তরপত্র উধাও হওয়ার ঘটনার পর উল্টে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে শো-কজ করা এবং হাসপাতালের ডিনকে চাপ দিয়ে ইস্তফা দেওয়ানোর মতো একাধিক অনিয়মে যুক্ত সুপার তাপস ঘোষ।
অভিযোগ, বিতর্কিত অভীক দে ঘনিষ্ঠ এই সুপারের দাপট আর জি কর আন্দোলনের পরেও সমানভাবে বজায় রয়েছে। ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের তরফে এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। অভিযুক্ত সুপার মন্তব্য করতে অস্বীকার করলেও, সমগ্র বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী।