হাবিবুর রহমান, ঢাকা: ডিসেম্বরেই শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামি লিগের পলাতক নেতা-কর্মীরা চাঙ্গা বোধ করছেন। কারাগারের ভয় উপেক্ষা করে তাদের উপস্থিতি জানান দিতে গোপনে গোপনে ঝটিকা মিছিলের পাশাপাশি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটাচ্ছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে নানাস্থানে এ কাণ্ড ঘটেছে। এবার রাজধানী ঢাকার পাঁচটি এলাকায় এক রাতেই অন্তত আটটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঢাকার আদাবর, শাহবাগ, বিমানবন্দর, খিলগাঁও ও মিরপুরের কালশী এলাকায় এসব বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। একই রাতে প্রগতি সরণীর কোকাকোলা ক্রসিং এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসেও আগুন দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া গত শুক্রবার রাতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে।

ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করছে পুলিশ।শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ে সদর দপ্তর লক্ষ্য করে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারীক (ওসি) সাইফুল ইসলাম জানান, আশপাশের কোনো ভবনের ছাদ কিংবা নিচের কোনো স্থান থেকে ককটেলটি নিক্ষেপ করা হয়ে থাকতে পারে।
এছাড়া রাত ৯টা ৫ মিনিটে আদাবর থানার সামনে মোটরবাইকে করে আসা অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। এরপর রাত ১০টা ২০ মিনিটে শাহবাগ থানার আইবি গেটের সামনে পুলিশের ডিউটি গাড়ি লক্ষ্য করে একটি ককটেল নিক্ষেপ করা হয়। মোটরবাইকে থাকা ব্যক্তিরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত সরে যায়। এর কিছুক্ষণ পর রাত ১২টা ১ মিনিটে শাহবাগের জুলাই চত্বরের পাশেও আরেকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়।

এদিকে রাত পৌনে ১২টার দিকে বিমানবন্দরের গোলচত্বরে পরপর দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার জানান, উড়ালসড়ক থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিরা ককটেল দুটি নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। একই রাতে মিরপুরের কালশী মোড়ে নম্বরপ্লেটবিহীন একটি মোটরবাইকে এসে একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় অজ্ঞাতরা। পরে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে তারা।
ঘটনার একটি ভিডিওতেও মোটরবাইকে আসা ব্যক্তিদের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। মিরপুর বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার জানান, কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে শুক্রবার সন্ধ্যায় প্রগতি সরণীর কোকাকোলা ক্রসিং এলাকায় বৈশাখী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাসটি সাভার-নতুন বাজার রুটে চলাচল করত। জানা গেছে, নতুন বাজারে যাত্রী নামানোর কিছুক্ষণ পর অজ্ঞাতরা বাসটিতে আগুন দেয়। এ বিষয়ে এখনো কিছু জানাতে পারেননি পরিবহন কোম্পানির আধিকারীকরা। পুলিশ জানিয়েছে, ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে।




