নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশকাণ্ডে উত্তাল রাজধানী দিল্লি। যতক্ষণ না পদত্যাগ করছেন জ্ঞানেশ, ততক্ষণ দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ-কর্মসূচির ডাক দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি। সেই কর্মসূচিতেই অংশ নিতে গিয়েছিলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। কিন্তু দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই তাঁকে আটক করার ঘটনা সামনে আসে। রাত পর্যন্ত তাঁর কোনও খবর পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে মধ্য রাতে ছেড়ে দেওয়া হয় ধ্রুব রাঠিকে। মুক্তি পাওয়ার পর পাসপোর্ট হাতে পুলিশের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন তিনি।
রবিবার ইনস্টাগ্রামে এক ভিডিওবার্তায় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি রাঠি বলেন, 'তাঁকে ‘শোয়ার ঘরে ঢুকে ‘অপহরণ’ করা হয়। ঘুমন্ত অবস্থায় আমাকে টানতে টানতে নিয়ে যায়। চপ্পল পর্যন্ত পরতে না দিয়ে গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। এটাকে আটক বা গ্রেফতার আমি বলব না। আটক করতে হলে পুলিশ উর্দি পরে আসত। গ্রেফতার করার হলে উপযুক্ত এফআইআর কপি নিয়ে আসত। এমনকি মা-বাবা-আমার ফোন পর্যন্ত কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
ধ্রুবের আরও করেন, 'গুরুগ্রামে নিজের বাড়িতে থাকাকালীন কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে পৌঁছে তাঁকে নিয়ে যান। তাঁর অভিযোগ, কী কারণে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে জানানো হয়নি। এমনকি, নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগও পাননি তিনি। ধ্রুব রাঠীর অভিযোগ করেছেন, তাঁকে নিজের আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে দেশের নাগরিক হিসেবে নিজের অধিকার নিয়েও সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, সরকারের সমালোচনা করা বা কোনও বিষয়ে মতামত প্রকাশ করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের রয়েছে। ধ্রুব রাঠীর কথায়, 'আমি ভারতীয় নাগরিক, পাসপোর্টও আছে। আর ৫ জনের মতোই আমিও আন্দোলনে যেতেই পারি।'
শনিবার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল সিজেপি। কিন্তু কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আগেই দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে-সহ কয়েক জন নেতাকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন দলের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা। দিল্লিতে পৌঁছনোর পরেই অভিজিৎ ও তাঁর সঙ্গীদের আটক করা হয় বলে দাবি দলের। একই দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও বহু আন্দোলনকারীকে আটক করার অভিযোগ ওঠে। তবে শর্তসাপেক্ষে ককরোচ জনতা পার্টির তিন নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কাকে ছেড়ে দেয় দিল্লি পুলিশ।
