একই দিনে সাত-সাতটি সোনা জিতে শনিবার কমনওয়েলথ গেমসে ইতিহাস গড়েছে ভারতীয় বক্সিং। আর সেই ইতিহাসেরই অন্যতম নায়িকা ২৪ বছরের অরুন্ধতী চৌধুরী। গত বছর বিশ্ব বক্সিং কাপে সোনা জেতার পর গ্লাসগোতেও সোনা ছিনিয়ে নিয়েছেন রাজস্থানের এই বক্সার। তবে তার থেকেও উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ফাইনালের মঞ্চে তিনি নাকি নেমেছিলেন ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়ে। এমনটাই জানা যাচ্ছে পরিবার সূত্রে।
মহিলাদের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে ৭০ কেজি বিভাগের ফাইনালে ব্রোঞ্জজয়ী ইংল্যান্ডের চ্যান্টেল রিডকে হারিয়ে সোনা জিতেছেন অরুন্ধতী। ফাইনাল ছিল একেবারে হাড্ডাহাড্ডি। কেউ কাউকে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে রাজি ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত এসইসি সেন্টারের রিংয়ে রেফারি অরুন্ধতীর হাত বিজয়ীর মতো উঁচিয়ে ধরতেই উচ্ছ্বাসে চিৎকার করে ওঠেন ভারতীয় বক্সার। সেই সঙ্গে উৎসব শুরু হয়ে যায় তাঁর বাড়িতেও।
তবে এই সোনার নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে এক অবিশ্বাস্য লড়াই। একদিকে ঘরের মেয়ের সাফল্যে সকলে যখন আনন্দে মাতোয়ারা, তখন এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অরুন্ধতীর দিদি চারুর দাবি, ম্যাচের শুরুতে গোটা পরিবার ছিল উদ্বিগ্ন। কারণ, ১০২ ডিগ্রি জ্বর নিয়েই রিংয়ে নেমেছিলেন তাঁর বোন। অসুস্থ শরীরকে হার মানিয়ে শেষ পর্যন্ত জিতেছেন সোনার পদক। ফলে, এই সাফল্যের গৌরব আরও বেড়ে গিয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
বস্তুতই এই সোনা জয়ের পথ একেবারেই সহজ ছিল না অরুন্ধতীর জন্য। ফাইনালের আগের দিনই সেমিফাইনালে তিনি হারিয়েছিলেন গত আসরের চ্যাম্পিয়ন রোজি একলসকে। পরপর দুই শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে নিজের কেরিয়ারের অন্যতম সেরা অধ্যায় লিখলেন অরুন্ধতী। তাও ধুম জ্বর গায়ে। সব মিলিয়ে শনিবারের দিনটি আক্ষরিক অর্থেই এক স্বর্ণোজ্জ্বল দিন হয়ে রইল ভারতের খেলাধুলার ইতিহাসে।