নিউজ ডেস্ক: বদলাচ্ছে সময়, বদলাচ্ছে চুরির সংজ্ঞাও। অস্ত্র হাতে সিঁধ কাটার দিন এখন আর নেই, অপরাধীরা এখন চার দেওয়ালের নিরাপদ আশ্রয়ে ল্যাপটপের কি-বোর্ডের মাধ্যমেই পৌঁছে যাচ্ছে মানুষের সারাজীবনে। কারণ সাধারণত এক বর্তমানে সকলের জীবনই বন্দি এখন মুঠোফোনে। কেনাকাটা থেকে সঞ্চয় সবই এখন হাতের মুঠোয় আর সুযোগ নিচ্ছে সাইবার প্রতারক।
তবে সবচেয়ে বড় আশ্চর্যের বিষয় বর্তমানে সাইবার অপরাধীদের সহজ নিশানা আর কোনও প্রযুক্তি-বিমুখ মানুষ নন, খোদ শিক্ষিত ও পেশাদার শ্রেণির প্রতিনিধিরা। এখন এই আন্তর্জাতিক প্রতারণা চক্রের মূল শিকার হলেন এলিট সম্প্রদায়ের মানুষ।
আইআইটি মাদ্রাজের সাম্প্রতিক একটি গভীর গবেষণায় উঠে এসেছে দেশের সাইবার অপরাধের এমনই এক উদ্বেগজনক ও আশ্চর্য করার মতো তথ্য।
সাধারণের মধ্যে ধারণা থাকে, প্রযুক্তি বা ডিজিটাল লেনদেন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে প্রতারণা এড়ানো সহজ কিন্তু আইআইটি মাদ্রাজের এই সমীক্ষা সেই প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করে দিয়েছে। দেখা যাচ্ছে, প্রতারিতদের তালিকায় রয়েছেন বহু সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মী, চিকিৎসক, আর্থিক ও ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ, এমনকী সাইবার নিরাপত্তার সনদধারী ব্যক্তি এবং সরকারি আধিকারিকরাও।
ভারতের দ্রুত প্রসারিত ডিজিটাল ব্যবস্থা, ইউপিআই-এর সর্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা এবং হাতের মুঠোয় আসা ইন্টারনেটের সুযোগ নিয়ে এই চক্র শিক্ষিতদের যুক্তিবোধেই আঘাত হানছে।
সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, সাইবার জালিয়াতরা কোনও ব্যক্তির প্রযুক্তিগত ত্রুটির চেয়ে বেশি লক্ষ্য করে তার মানসিক দুর্বলতাকে। পরিবারের কারও জটিল অসুখ, চাকরি হারানোর আতঙ্ক, অবসরের পর সঞ্চয় নিয়ে দোলাচল বা কর্মক্ষেত্রে তীব্র মানসিক চাপ জীবন যখন কঠিন বাঁকে দাঁড়ায়, তখনই ফাঁদ পাতে প্রতারকরা। মানুষের ভয়, দ্রুত টাকা রোজগারের প্রলোভন কিংবা সামাজিক সম্মানহানির আশঙ্কাই হয়ে ওঠে এই অপরাধীদের প্রধান অস্ত্র। প্রতারকরা পরিস্থিতি এমন এক পর্যায়ে নিয়ে যায়, যেখানে শিকার স্বাভাবিক বিচারবুদ্ধি হারিয়ে ফেলেন।
গবেষণায় সাইবার অপরাধের শিকার হওয়া এই দশাকে আখ্যা দিয়েছেন ‘মাইন্ড অ্যারেস্ট’ বা মানসিক পক্ষাঘাত হিসেবে। এই বিভ্রান্তিকর মুহূর্তে নিমেষের মধ্যে খোয়া যাচ্ছে কয়েক হাজার থেকে শুরু করে কোটি টাকারও বেশি।
চেন্নাই, বেঙ্গালুরু, হায়দরাবাদ, নয়াদিল্লি ও মুম্বইয়ের মোট ৩৩ জন ভুক্তভোগীর তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত এই সমীক্ষাটি করা হয়েছে।
ডিজিটাল দুনিয়া যত প্রাত্যহিক জীবনের অঙ্গ হয় উঠছে, ততই বাড়ছে প্রতারণা। এর থেকে বাঁচার আদেও কি কোন উপায় আছে অনেকেই জানতে চাইছেন সেটি। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে এর মধ্যে এর থেকে বাঁচার কোন উপায় নেই কিন্তু একটি উপায় হতে পারে নিজেকে প্রতিটি মুহূর্তে আপডেট রাখা এবং একটু সচেতন ভাবে পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
