তোলাবাজি ও দুর্নীতি নিয়ে বিজেপির অন্দরেই এবার কড়া বার্তা দিলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। দলের কিছু বিধায়ক ও নেতার সঙ্গে তোলাবাজদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে বলে অভিযোগ করে তিনি সতর্ক করেছেন, অন্যায় বা দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত কাউকেই রেয়াত করা হবে না। আগামী দিনে দলের তরফে প্রত্যেকের কাজকর্মের হিসাব নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দিলীপ ঘোষ অভিযোগ করেন, আগের সরকারের আমলে দুর্নীতি ও তোলাবাজির সঙ্গে যুক্ত থাকা কিছু ব্যক্তি এখন ক্ষমতার পালাবদলের পর বিজেপির নেতাদের কাছে ঘনিষ্ঠ হওয়ার চেষ্টা করছেন। তাঁর দাবি, তোলাবাজির সংস্কৃতি একদিনে শেষ হয়ে যাবে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। দলের নেতাদেরও এ ধরনের ব্যক্তিদের থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
দিলীপের কথায়, দলের কিছু নেতা নতুন করে ক্ষমতার স্বাদ পেয়ে তোলাবাজদের প্রভাব থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারছেন না। বিশেষ করে কয়েক জন নতুন বিধায়কের নাম না করে তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর তাঁদের সঙ্গে তোলাবাজদের ঘনিষ্ঠতা বাড়ছে। এর ফলে কারও কারও কথাবার্তা ও আচরণেও পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দলের অভ্যন্তরে এমন পরিস্থিতি নিয়ে সরাসরি সতর্কবার্তা দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, বিজেপি নেতৃত্ব সবকিছুর উপর নজর রাখছে। কয়েক মাস সময় যাওয়ার পর দলের পক্ষ থেকে প্রত্যেকের কাজের হিসাব নেওয়া হবে। তিনি স্পষ্ট করে দেন, তোলাবাজি বা দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে কোনও নেতাই রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে ছাড় পাবেন না।
এর পাশাপাশি সাধারণ মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিবর্তন এনেছেন, সেই বিষয়টিও নেতাদের মনে রাখার বার্তা দেন দিলীপ। তাঁর মতে, বিজেপির নেতা-কর্মীদের দায়িত্ব হল তোলাবাজ ও দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের থেকে দূরে থাকা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া।
তোলাবাজি নিয়ে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও সম্প্রতি দলের নেতাদের সতর্ক করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, প্রশাসনিক স্তরে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন এবং দলের পক্ষ থেকেও সাংগঠনিকভাবে পদক্ষেপ করা হচ্ছে। কয়েকটি জায়গায় বিচ্যুতি রয়েছে বলে স্বীকার করে তিনি সংশ্লিষ্টদের সময়সীমার মধ্যেই নিজেদের সংশোধন করার বার্তা দেন।
ফলে দিলীপ ঘোষের সাম্প্রতিক মন্তব্যে স্পষ্ট, তোলাবাজি ও দুর্নীতির অভিযোগকে ঘিরে বিজেপির অন্দরে এখন কড়া নজরদারি ও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। দলের নতুন ও পুরনো নেতাদের আচরণ নিয়েও আগামী দিনে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।