নিউজ ডেস্ক: অভিনেতা তথা মডেল ডিনো মোরিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে মুম্বই পুলিশের অর্থনৈতিক অপরাধ শাখা বা ইকোনমিক অফেন্সেস উইং (EOW)-এর তরফ থেকে। আজ অর্থাৎ ২ অক্টোবর দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর অভিনেতাকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, গ্রেফতারির আগে মুম্বইয়ের বান্দ্রায় অবস্থিত ডিনোর বাসভবনে টানা ৮ ঘণ্টা ধরে ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদ চালান তদন্তকারী আধিকারিকেরা। সূত্রের খবর, মুম্বইয়ের BMC-এর অধীনস্থ মিঠী নদীর পলি অপসারণ ও সংস্কার প্রকল্পে বিপুল অঙ্কের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে তাঁকে।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক হিসেব অনুযায়ী, এই আর্থিক কারচুপির ফলে পুরসভার আনুমানিক ৬৫.৫৪ কোটি টাকার মারাত্মক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ২০০৫ সাল থেকে চলা মিঠি নদী পরিষ্কার প্রকল্পে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কোটি টাকা সন্দেহজনক লেনদেনের বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মূলত মিঠী নদীর পলি অপসারণ সংক্রান্ত চুক্তি বণ্টন এবং অর্থ লেনদেনের জটিল পথ অনুসরণ করেই এই তদন্ত এগোচ্ছে। এই মামলায় বেশ কিছুদিন ধরেই অভিনেতা ডিনো মোরিয়ার নাম বার বার সামনে আসছিলো। গত বছর জুন মাসেও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল অভিনেতার মুম্বইয়ের বাসভবনে টানা ১৪ ঘণ্টা ধরে বহুক্ষন তল্লাশি চালিয়েছিল। শুধু ডিনোর বাড়িই নয়, সেই সময় মুম্বই ও কোচির প্রায় ১৪টি বিভিন্ন জায়গায় একসাথে অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় সংস্থা। যার মধ্যে ডিনোর ভাইয়ের বাসভবনসহ একাধিক ঠিকাদার ও মধ্যস্থতাকারীদের ডেরা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
EOW গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে ঠিকাদার, মধ্যস্থতাকারী ও পুর আধিকারিকদের মধ্যে কীভাবে টাকা হাতবদল হয়েছিল। তদন্তে উঠে এসেছে যে, দুর্নীতির একটি অংশ হিসেবে প্রায় ১৮ লক্ষ টাকা ‘ইউবিও রাইডজ়’ (UBO Rides) নামে একটি সংস্থায় স্থানান্তরিত করা হয়েছিল। মূল বিষয় হল, এই সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর পদে রয়েছেন ডিনোর ভাই স্যান্টিনো মোরিয়া। মূল চক্রান্তকারী কেতন কদম এই অর্থ পাচার করেছিলেন বলে দাবি ইওডব্লিউ-এর দাবি। মিঠী নদী কেলেঙ্কারিতে প্রত্যক্ষ জড়িত থাকার অভিযোগে ২০২৫ সালেই গ্রেফতার হন কেতন কদম।
তবে তদন্তকারী আধিকারিকরা পরিষ্কার জানিয়েছেন, ডিনো মোরিয়ার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগই বর্তমানে বিচারাধীন ও তদন্তসাপেক্ষ। আইনি প্রক্রিয়া অনুযায়ী এখনও আদালতে কোনও অভিযোগ চূড়ান্ত প্রমাণিত হয়নি।
