আসন্ন সংসদীয় বাদল অধিবেশনে জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর মর্যাদা রক্ষায় এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের কালজয়ী এই সৃষ্টির অবমাননা রুখতে এবং এর গরিমা বজায় রাখতে এবার কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২০ জুলাই বাদল অধিবেশন শুরু হলেই সংসদে পেশ হতে পারে ‘জাতীয় সম্মানের অপমান প্রতিরোধ (সংশোধনী) বিল, ২০২৬’। সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার সবুজ সংকেত পেয়েছে এই প্রস্তাবিত বিলটি।
দীর্ঘদিন ধরেই ‘বন্দে মাতরম’-কে জাতীয় গানের মর্যাদা দিয়ে আসছে বর্তমান সরকার। চলতি বছর বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে একাধিক কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে এবার জাতীয় সঙ্গীতের সমকক্ষ সম্মান দেওয়া হচ্ছে জাতীয় গানকেও। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠানে ‘জনগণমন’-র পাশাপাশি ‘বন্দে মাতরম’ গানটিও গাওয়া বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, গানের সম্পূর্ণ ছয়টি স্তবকই গাইতে হবে এবং গানটি চলার সময় সকলকে উঠে দাঁড়িয়ে যথাযোগ্য সম্মান প্রদর্শন করতে হবে।
বর্তমানে প্রচলিত ১৯৭১ সালের ‘জাতীয় সম্মান আইন’ অনুযায়ী দেশের জাতীয় পতাকা, সংবিধান এবং জাতীয় সঙ্গীতকে অপমান করা বা গাইতে বাধা দেওয়া শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কেন্দ্রের নতুন সংশোধনী বিলে এই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে ‘বন্দে মাতরম’। নতুন নিয়ম লঙ্ঘন করলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে অপরাধীকে। প্রস্তাবিত আইন অনুযায়ী, যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বন্দে মাতরম গানটিকে অপমান করেন, গাইতে বাধা সৃষ্টি করেন কিংবা মাঝপথে থামিয়ে দেন, তবে তাঁর সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডই হতে পারে।
সংসদের উভয় কক্ষে বিলটি পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষর পেলেই তা পূর্ণাঙ্গ আইন হিসেবে দেশজুড়ে কার্যকর হবে। জাতীয় আবেগকে মান্যতা দিয়ে এবং জাতীয় প্রতীকের অবমাননা রুখতেই কেন্দ্রের এই কঠোর অবস্থান বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।