বিপদের দিনে বন্ধু ডোনাল্ড ট্রাম্পকে পাশে পেলেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, কোনও কারণে ইনফান্তিনোকে সরানোর কথা ভাবলে ‘মারাত্মক ভুল’ করবে ফিফা। নিজের ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ইনফান্তিনো অসাধারণ কাজ করেছেন। তাঁর নেতৃত্বেই ইতিহাসের অন্যতম সফল বিশ্বকাপ হয়েছে। তাঁকে সরালে বিশ্বকাপ আর কখনও এতটা সফল বা লাভজনক হবে না বলেও দাবি করেন ট্রাম্প।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ক্ষোভের সূত্রপাত বিশ্বকাপ বেসরকারিকরণের একটি বিতর্কিত প্রস্তাবকে ঘিরে। ফিফার তরফে একটি সহযোগী সংস্থার মাধ্যমে বিশ্বকাপ এবং ক্লাব বিশ্বকাপের অংশীদারিত্ব লগ্নিকারীদের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন ইনফান্তিনো। ওই সংস্থাটির প্রাথমিক মূল্য ধরা হয়েছিল প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার।
সংবাদমাধ্যমে সেই পরিকল্পনা প্রকাশ্যে আসতেই কার্যত ঝড় ওঠে ফুটবল দুনিয়ায়। সদস্য দেশগুলির সঙ্গে আলোচনা না করেই এমন প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চকে ‘বিক্রির জন্য’ তুলে দেওয়া যায় না, এই যুক্তিতেই সরব হয় একাধিক মহাদেশীয় ফুটবল সংস্থা।
শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব অবশ্য প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হয়েছে ফিফা। কিন্তু তাতেও বিতর্ক থামেনি। বরং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ফুটবল প্রশাসন ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে একজোট হতে শুরু করেছে। তাঁকে ফিফা সভাপতির পদ থেকে সরানোর দাবিও উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। ইনফান্তিনোর সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা অবশ্য নতুন নয়। ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে উত্তর আমেরিকায় দু’জনের সম্পর্ক নিয়ে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ইনফান্তিনোর প্রস্তাব নিয়ে কয়েক দিন আগেই ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তাঁর আগে থেকে কোনও ধারণাই ছিল না। অথচ ওই প্রকল্পের সম্ভাব্য লগ্নিকারী গোষ্ঠীর নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল জ্যারেড কুশনারের ভাই জোশুয়া কুশনারের প্রতিষ্ঠিত ভেঞ্চার ক্যাপিটাল সংস্থা ‘থ্রাইভ ইটার্নাল’-এর। সেই সময় ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলেও খবর প্রকাশ্যে আসে। ফলে ইনফান্তিনোর পাশে ট্রাম্পের এ দিনের দাঁড়ানো নতুন করে প্রশ্ন তুলছে ফিফার অন্দরমহল এবং বিশ্ব ফুটবল প্রশাসনে।