কলকাতা: দুর্গাপুজোর উৎসব শুধু আনন্দ, আড্ডা আর ঠাকুর দেখার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উৎসবের মরশুমে চাঙ্গা হয়েছে বাংলার হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসাও। আর তার সরাসরি প্রভাব পড়েছে রাজ্যের রাজস্ব আদায়ে। পুজোর মরশুমে হোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসা থেকে জিএসটি আদায়ে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে বলে সরকারি পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে। গত বছরের তুলনায় এই ক্ষেত্রে ব্যবসা বেড়েছে প্রায় ৫৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে পশ্চিমবঙ্গের হোটেল ও রেস্তোরাঁ ক্ষেত্রের গড় মাসিক লেনদেন ছিল প্রায় ৬৫০ কোটি টাকা। কিন্তু চলতি বছরের সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসে সেই অঙ্ক এক ধাক্কায় বেড়ে দাঁড়িয়েছে মাসে প্রায় ১,০০০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ, পুজোর মরশুমে প্রতি মাসে অতিরিক্ত প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার ব্যবসা হয়েছে। শতাংশের হিসাবে বৃদ্ধির হার প্রায় ৫৪ শতাংশ।
দুর্গাপুজোর সময়ে কলকাতা থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় খাবারের দোকান, রেস্তোরাঁ এবং হোটেলগুলিতে ক্রেতাদের ভিড় বাড়ে। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে খাওয়াদাওয়া, প্যান্ডেল হপিংয়ের মাঝে রেস্তোরাঁয় ভিড় এবং পর্যটকদের আনাগোনা—সব মিলিয়ে ব্যবসার পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যায়। সেই বাড়তি লেনদেনের প্রভাব পড়েছে জিএসটি আদায়েও।
প্রশাসনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দুর্গাপুজোর সময় হোটেল ও রেস্তোরাঁ পরিষেবা থেকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা জিএসটি আদায় হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এই খাতে জিএসটি আদায় বেড়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। উৎসবের মরশুমে পর্যটন ও খাদ্য পরিষেবা ক্ষেত্রের এই বৃদ্ধি রাজ্যের রাজস্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে।
তবে ব্যবসা বৃদ্ধির পাশাপাশি খাবারের গুণমান ও পরিচ্ছন্নতা নিয়েও সতর্ক ছিল প্রশাসন। পুজোর আগে থেকেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান শুরু হয়। একাধিক হোটেল ও রেস্তোরাঁয় খাবারের মান এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখা হয়। কোথাও অনিয়ম ধরা পড়ায় খাবার নষ্ট করা হয়েছে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে লাইসেন্স সাসপেন্ড করার মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে।
পুজো শেষ হলেও খাদ্য সুরক্ষা সংক্রান্ত নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। একদিকে উৎসবের মরশুমে ব্যবসার রেকর্ড বৃদ্ধি, অন্যদিকে খাবারের মান বজায় রাখার প্রশাসনিক তৎপরতা দুইয়ের মধ্যেই এবার বাংলার হোটেল ও রেস্তোরাঁ শিল্পের ছবিটা স্পষ্ট হয়েছে।




