একেই বলে চ্যাম্পিয়ন! কেন গত মরশুমে আইএসএল জিতেছে বুধবার ঘরের মাঠে সেটাই নতুন করে প্রমাণ করে দিল ইস্টবেঙ্গল। এএফসি কোয়ালিফায়ারে কুয়েত লিগের রানার্স-আপ আল-আরবির বিরুদ্ধে এক সময় ০-১ পিছিয়ে পড়েছিল লাল-হলুদ। কিন্তু শেষ মুহূর্তে জয় গুপ্তার গোলে সমতা ফেরানোর পর অতিরিক্ত সময়ে যুবভারতীতে ঝড় তুলল হাবাসের দল। রশিদ, ডেভিড, রোহিত দানুদের দাপটে শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে ম্যাচ জিতে এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এর মূল পর্বের টিকিট নিশ্চিত করল ইস্টবেঙ্গল।
ম্যাচের আগে কোচ হাবাসের বড় চিন্তার জায়গা ছিল বিদেশিদের না পাওয়া। উল্টো দিকে পাঁচ বিদেশিকে প্রথম একাদশে রেখে শুরু থেকেই আগ্রাসী ফুটবল খেলছিল আল-আরবি। তবু প্রথমার্ধে গোল পায়নি কোনও দল। ইস্টবেঙ্গলের হয়ে রশিদ ও জেসিন টিকে সুযোগ তৈরি করলেও কাজে লাগাতে পারেননি। গোললাইন থেকে দুরন্ত সেভ করে দলকে বাঁচান গোলকিপার প্রভসুখন সিং গিল। বিরতির পরও গোলের সুযোগ এসেছিল লাল-হলুদের সামনে, কিন্তু বিপিন-জেসিনরা তা কাজে লাগাতে পারেননি।
৭৫ মিনিটে সন্দীপ মাণ্ডির ফাউল থেকে পেনাল্টি পায় আল-আরবি। স্পট কিক থেকে ইওয়ালা গোল করে কুয়েতের দলকে এগিয়ে দেন। তখনই যেন ঘুম ভাঙে ইস্টবেঙ্গলের। ক্রিস ইকোনোমিডিসকে নামিয়ে আক্রমণের ধার বাড়ান হাবাস। একের পর এক আক্রমণে চাপ বাড়তে থাকে আল-আরবির রক্ষণে। শেষ পর্যন্ত ৮৯ মিনিটে সেটপিস থেকে জয় গুপ্তার হেডে সমতা ফেরে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষ হয় ১-১ স্কোরে।
এর পর অতিরিক্ত সময় যেন পুরোপুরিই ইস্টবেঙ্গলের। খোঁচা খাওয়া কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে, কার্যত সেটা প্রমাণ করার তাগিদেই ক্লান্ত আল-আরবিকে ছিন্নভিন্ন করে একের পর এক গোল তুলে নেয় লাল-হলুদ বাহিনী। রশিদ, ডেভিড লালহ্লানসাঙ্গা, রোহিত দানুদের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১। যুবভারতীতে প্রায় সাড়ে ১৭ হাজার সমর্থকের সামনে পিছিয়ে পড়েও এমন প্রত্যাবর্তন শুধু ম্যাচ জেতাল না, ইস্টবেঙ্গলকে তুলে দিল এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ-২-এর মূল পর্বেও।