বাংলার খবরের শিরোনামে অন্যতম নাম বীরভূমের পাথর কারবারি মহম্মদ নাজিবুদ্দিন ওরফে টুলু মণ্ডল। প্রতিনিয়তই একের পর এক খবর প্রকাশ্যে আছে তাকে ঘিরে। এবং টুলু মন্ডলের তদন্তে ইসিআইআর দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তথা ইডি। টুলুর আত্মীয় মিনার মণ্ডলের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ ও সোনা উদ্ধারের ঘটনার পর বীরভূম পুলিশের এফআইআর ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথির ভিত্তিতে এই মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
বীরভূম পুলিশের দায়ের করা এফআইআর ও তদন্ত-সংক্রান্ত নথি সংগ্রহ করার পরই এই ইসিআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া বিপুল সম্পত্তির উৎস কি রয়েছে, আর্থিক লেনদেন কি-ভাবে হয়েছে সমস্ত কিছু খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দাবি ইডির। টুলুর ঘনিষ্ঠদের বাড়িতেও যাওয়া হচ্ছে। তাদেরকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
সোমবার রাতে টুলু মন্ডলের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে নইম উদ্দিন মন্ডলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি মিনার মণ্ডলের শ্যালক। বীরভূমের মোহাম্মদবাজারের সোঁতসাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হলে বিচারক দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
তদন্তকারীদের দাবি, এখনো পর্যন্ত এই মামলায় ২৮ কোটি ৫ লক্ষ টাকা নগদ, ২১ কোটি ৫ লক্ষ টাকার সোনা, ২৪২ টি গাড়ি, ২-টি পেট্রল পাম্প এবং কয়েকশো বিঘা জমির নথি উদ্ধার হয়েছে। এই বিপুল সম্পত্তির উৎস খতিয়ে দেখছে ইডি। প্রাথমিকভাবে ইডি আধিকারিকদের অনুমান বিগত এক দশক ধরে কয়েকশো কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেওয়া হয়েছে। অবৈধ পাথর ও বালি পাচারের বিপুল কালো টাকার একটি অংশ জেলার একাংশ পুলিশ-প্রশাসনের আধিকারিকদের মদতে প্রভাবশালী মহলে পৌঁছেছে বলে তদন্তকারীদের সন্দেহ রয়েছে। শুধু তাই নয় বীরভূমের প্রভাবশালী তৃণমূল নেতৃত্বদের কাছেও এই অর্থের অংশ পৌঁছাতো বলে দাবি ইডির। এমনকি বিদেশেও এই অর্থ পাচার হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও এ বিষয়ে বীরভূম জেলা তৃণমূল নেতৃত্বদের তরফ থেকে কোন প্রতিক্রিয়া যায়নি।
টুলু মন্ডলের কাণ্ডে অর্থপাচার, বেআইনি সম্পদ এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বহু তথ্য উঠে এসেছে তদন্তকারীদের হাতে। আগামী দিনে এই তদন্তের মোড় কোন দিকে যায় সেটাই দেখার।




