জাতীয় সড়কের পর এবার কি রাজ্য সড়কেও টোল ট্যাক্স দিতে হবে? রাজ্য সরকারের এমনই একটি পরিকল্পনাকে ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, রাজ্যের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ, সংস্কার এবং নতুন পরিকাঠামো গড়ে তুলতে বিকল্প আয়ের উৎস খুঁজছে সরকার। সেই ভাবনা থেকেই নির্দিষ্ট রাজ্য সড়ক ও সেতুতে টোল আদায়ের পরিকল্পনা সামনে এসেছে।
বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে জাতীয় সড়কে চলাচলের ক্ষেত্রে টোল দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে রাজ্য সড়কে সাধারণত এমন কোনও নিয়ম নেই। নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে ভবিষ্যতে রাজ্য সরকারের অধীন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সেতু ব্যবহার করলেও নির্ধারিত হারে টোল দিতে হতে পারে গাড়িচালকদের।
প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, রাজ্যে গত কয়েক বছরে বহু নতুন রাস্তা, উড়ালপুল ও সেতু তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো সড়কগুলির রক্ষণাবেক্ষণেও প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে। সরকারি কোষাগারের উপর চাপ কমাতে এবং পরিকাঠামোর উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে ‘ইউজার পে’ বা ব্যবহারকারী-ভিত্তিক অর্থ আদায়ের মডেল বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে কোন কোন সড়কে টোল বসবে, কী হারে টোল নেওয়া হবে, কোন ধরনের যানবাহন ছাড় পাবে কিংবা স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য কোনও বিশেষ সুবিধা থাকবে কি না— সে বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। প্রাথমিক পর্যায়ে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন দফতরের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
এদিকে, এই সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত ঘিরে পরিবহণ মহলে ইতিমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ট্রাক ও বাণিজ্যিক গাড়ির মালিকদের একাংশের আশঙ্কা, নতুন করে টোল চালু হলে পণ্য পরিবহণের খরচ বাড়বে। তার প্রভাব বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের উপরও পড়তে পারে। অন্যদিকে, সড়ক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, টোল থেকে প্রাপ্ত অর্থ যদি স্বচ্ছভাবে রাস্তা ও সেতুর উন্নয়নে ব্যয় করা হয়, তবে দীর্ঘমেয়াদে তার সুফল পাবেন সাধারণ মানুষই।
পরিকাঠামো উন্নয়নের স্বার্থে দেশের একাধিক রাজ্যে ইতিমধ্যেই রাজ্য সড়কে টোল আদায়ের ব্যবস্থা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গও সেই পথেই হাঁটতে পারে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ। তবে প্রস্তাবটি কার্যকর করার আগে নীতিগত অনুমোদন, আইনি কাঠামো, টোল প্লাজা নির্মাণ, ডিজিটাল টোল সংগ্রহ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে হবে।
সব মিলিয়ে, জাতীয় সড়কের গণ্ডি পেরিয়ে যদি রাজ্য সড়কেও টোল ব্যবস্থা চালু হয়, তবে পশ্চিমবঙ্গের সড়ক পরিবহণ ব্যবস্থায় তা হবে একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন। এখন নজর সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।