ভারতের আর্থিক রাজধানী, স্বপ্নপূরণের শহর— মুম্বই। প্রতি বছর কাজ, পড়াশোনা কিংবা কেরিয়ারের টানে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমান এই মহানগরে। কিন্তু শহরে পা রাখার পরই যে সমস্যার মুখে প্রায় সবাই পড়েন, তা হল মাথা গোঁজার জন্য একটি ভাড়ার ফ্ল্যাট খুঁজে পাওয়া। সেই চিরচেনা যন্ত্রণাকেই এবার ব্যঙ্গ-রসের মোড়কে তুলে ধরলেন এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার। আর তাঁর একটি মন্তব্যেই হইচই পড়ে গিয়েছে নেটদুনিয়ায়— "মুম্বইয়ে ভাড়ার ফ্ল্যাট খুঁজে পাওয়া ইউপিএসসি পরীক্ষায় পাশ করার থেকেও কঠিন!"
ভিডিওটির শুরুতেই তিনি বলেন, মুম্বইয়ে চাকরি জোগাড় করা যতটা কঠিন, তার থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ একটি ভালো ফ্ল্যাট খুঁজে পাওয়া। একের পর এক বাড়ি দেখতে গিয়ে তাঁকে এমন সব প্রশ্ন ও শর্তের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যা শুনে তাঁর মনে হয়েছে, বাড়ি ভাড়া নয়, যেন কোনও সরকারি চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসেছেন।
ইনফ্লুয়েন্সারের দাবি, অনেক বাড়িওয়ালাই প্রথমেই জানতে চান— ভাড়াটে বিবাহিত না অবিবাহিত, কী পেশা, কত রাত পর্যন্ত বাইরে থাকেন, বন্ধুবান্ধব বাড়িতে আসেন কি না, পোষ্য প্রাণী আছে কি না, এমনকি সপ্তাহান্তে পার্টি করেন কি না। কোথাও অবিবাহিতদের সরাসরি 'না', কোথাও আবার অফিসের সময়সূচি পর্যন্ত জানাতে হচ্ছে। অনেক আবাসনে আবার সোসাইটির নিজস্ব নিয়ম এতটাই কঠোর যে, ভাড়াটেদের ব্যক্তিগত জীবনও কার্যত নিয়ন্ত্রণের মধ্যে চলে আসে।
তাঁর কথায়, "ফ্ল্যাট খুঁজতে বেরিয়ে মনে হচ্ছিল ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিলেই হয়তো সহজ হত!"— এই সংলাপই মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। হাসির ছলে বলা এই মন্তব্যে বাস্তব জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার প্রতিফলন খুঁজে পেয়েছেন বহু মানুষ।
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর কয়েক লক্ষ মানুষ তা দেখেছেন। কমেন্ট বক্সে উপচে পড়েছে প্রতিক্রিয়া। এক নেটিজেন লিখেছেন, "মুম্বইয়ে ফ্ল্যাট খোঁজা সত্যিই ফুল-টাইম চাকরি।" আরেকজনের মন্তব্য, "বাজেট থাকলেও বাড়ি পাওয়া যায় না, আবার বাড়ি পেলেও শর্তের শেষ নেই।" কেউ আবার মজা করে লিখেছেন, "ইউপিএসসি, জেইই, ক্যাট— সব পরীক্ষার চেয়েও কঠিন মুম্বইয়ে ভাড়ার ফ্ল্যাট পাওয়া!"
আসলে মুম্বইয়ে আবাসনের সংকট নতুন নয়। সীমিত জায়গা, বিপুল চাহিদা এবং ক্রমবর্ধমান ভাড়ার কারণে সাধারণ চাকরিজীবী, ছাত্রছাত্রী কিংবা নতুন কর্মজীবীদের কাছে একটি উপযুক্ত ফ্ল্যাট খুঁজে পাওয়া দীর্ঘদিন ধরেই বড় চ্যালেঞ্জ। তার উপর বাড়িওয়ালাদের নানা বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
তাই নিছক বিনোদনের ভিডিও হলেও, ইনফ্লুয়েন্সারের এই বক্তব্য যেন মুম্বইবাসীর দীর্ঘদিনের এক বাস্তব সমস্যাকেই সামনে এনে দিয়েছে। আর সেই কারণেই তাঁর রসিকতা আজ শুধুই হাসির খোরাক নয়, বরং হাজার হাজার মানুষের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে।




