ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত পৌনে এগারোটা। তবে এমন রাত্রিতে আতঙ্ক পূর্ব বর্ধমানে। হঠাৎই রাতের নিস্তব্ধতার মাঝেই পূর্ব বর্ধমানের মাধবডিহি ব্লক প্রাথমিক হাসপাতালে চাঞ্চল্য। হাসপাতাল চত্বর ভরল কালো ধোঁয়ায়। আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে ছুটে আসেন সাধারণ মানুষজন।
নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঝরাতেই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন উদ্ধারকাজে। খবর পেয়ে ছুটে আসে মাধবডিহি থানার পুলিশও। ওসি রাজেশ মাহাতোর তৎপরতা সাধারণ মানুষের চেষ্টায় কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আছে। নিশ্চিত এক বিরাট বিপদের হাত থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পায় হাসপাতালটি।
কিন্তু হাসপাতালের আগুন নিভলেও, স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। নিশানায় খোদ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, যার কাঁধে এত বড় হাসপাতালের দায়িত্ব, সেই বিএমওএইচ কে নাকি নিয়মিত দেখা যায় না। দিনের পর দিন চলছে চরম প্রশাসনিক গাফিলতি। তার বদলে যিনি হাসপাতাল সামলান, রোগী থেকে সাধারণ মানুষ সবার সঙ্গেই দুর্ব্যবহার করা যেন তার রোজনামচা।
আগুন লাগার খবর সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে পৌঁছনো সাংবাদিকদেরও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি সাংবাদিকদের সঙ্গে অসহযোগিতামূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ। এমনকি আগুন নেভানোর কাজে যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে এসেছিলেন, তাদের প্রতিও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল চত্বরে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, প্রশাসনিক তৎপরতা এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীদের আচরণ নিয়ে অবিলম্বে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা আর না ঘটে, তার জন্য হাসপাতালেরঅগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার দাবিও উঠেছে।
এই ঘটনায় হাসপাতাল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ কি তার তদন্ত নেমেছে প্রশাসন। ব্লকের এমন হাসপাতালে অব্যবস্থা এবং এমন এক ভয়াবহ ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে রায়না ২ ব্লক জুড়ে।