ইন্দোনেশিয়া: বাথরুমে মাকড়সার জাল দেখে ভয় পেয়েছিলেন। সেটিকে তাড়াতে সামান্য কাগজে আগুন ধরিয়েছিলেন এক পর্যটক। কিন্তু সেই আগুনই যে কয়েক মিনিটের মধ্যে তাঁর ছুটির আস্তানা পুড়িয়ে ছাই করে দেবে, তা বোধহয় দুঃস্বপ্নেও ভাবেননি তিনি। ইন্দোনেশিয়ার বালিতে মাকড়সা তাড়ানোর এমনই এক অদ্ভুত চেষ্টা শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণ হয়ে দাঁড়াল। আগুনে সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে গেল প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার ডলার মূল্যের একটি বিলাসবহুল ভিলা। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য আনুমানিক ১ কোটি টাকার কাছাকাছি। তবে স্বস্তির বিষয়, এই ঘটনায় প্রাণহানির খবর নেই। ওই পর্যটকও অক্ষত অবস্থায় বেরিয়ে আসতে পেরেছেন।
ঘটনাটি গত ৫ অক্টোবর বালির উত্তর কুটা এলাকার তিবুবেনেং গ্রামে। নেপালের ৪৫ বছর বয়সি পর্যটক গাওরাপ রানা ওই ভিলায় ছিলেন। বাথরুমে একটি মাকড়সা ও তার জাল দেখতে পেয়ে সেটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। অভিযোগ, মাকড়সাটিকে ভয় দেখিয়ে সরানোর জন্য একটি কাগজে আগুন ধরিয়ে দেন। তার পর বাথরুম থেকে বেরিয়ে পাশের কাজের ঘরে চলে যান।
কিন্তু জ্বলন্ত কাগজটি সেখানেই নিভে যায়নি। স্থানীয় পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, প্রবল হাওয়ায় সেটি উড়ে গিয়ে ভিলার খড়ের ছাদে পড়ে। শুকনো ছাদে আগুন লাগতেই দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে শিখা। কিছুক্ষণের মধ্যেই আগুন গ্রাস করে নেয় গোটা বাড়িটিকে। ভিলাটির ছাদ তৈরি হয়েছিল ‘আলাং-আলাং’ নামের এক ধরনের ঘাস দিয়ে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ঐতিহ্যবাহী বাড়ি তৈরিতে এই ঘাসের ব্যবহার রয়েছে। তবে শুকনো অবস্থায় এই উপাদান অত্যন্ত দাহ্য। ফলে জ্বলন্ত কাগজ থেকে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর তা দ্রুত ছাদের বড় অংশে পৌঁছে যায়। গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার পাশাপাশি জোরালো হাওয়াও আগুনের তীব্রতা বাড়িয়ে দেয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। আগুন দেখতে পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। খবর দেওয়া হয় দমকলকে। আগুন নেভানোর কাজে একাধিক দমকলের ইঞ্জিন নামানো হয়। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। কিন্তু তত ক্ষণে ভিলাটি এবং তার ভিতরে থাকা আসবাবপত্র-সহ যাবতীয় সামগ্রী পুড়ে নষ্ট হয়ে গিয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ কোটি ইন্দোনেশীয় রুপিয়া, অর্থাৎ আনুমানিক ১ লক্ষ ২৬ হাজার ডলার। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সম্পত্তিটির মূল্য প্রায় ১ লক্ষ ১২ হাজার ডলার বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আগুনে পাশের বাড়িগুলির ক্ষতি হয়নি। এই ঘটনায় কেউ আহতও হননি। যে মাকড়সাটিকে তাড়াতে গিয়ে এমন বিপর্যয়, সেটি কোন প্রজাতির ছিল, তা এখনও জানা যায়নি। বালিতে বিষধর মাকড়সার অস্তিত্ব থাকলেও পর্যটকদের থাকার জায়গায় সাধারণত তাদের দেখা মেলে না বলেই স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য। সাধারণত সেখানে যে ধরনের মাকড়সা দেখা যায়, সেগুলির অধিকাংশই মানুষের জন্য বিপজ্জনক নয়।
মাকড়সার ভয় থেকে আগুন ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত যে কতটা বিপজ্জনক হতে পারে, এই ঘটনা ফের তা সামনে এনে দিয়েছে। বিশেষ করে খড়, শুকনো ঘাস বা কাঠের মতো দাহ্য উপাদানে তৈরি বাড়িতে সামান্য আগুনও দ্রুত ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তার সঙ্গে জোরালো হাওয়া থাকলে আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়। ঘটনার পর ওই পর্যটকের বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ছুটির আনন্দে বালিতে বেড়াতে গিয়ে একটি ছোট্ট মাকড়সাকে তাড়ানোর চেষ্টা যে বিপুল আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াল, তা নিয়ে স্থানীয় মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।





