বদলার মঞ্চ ছিল প্রস্তুত। ৪ বছর আগে কাতার বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরেই স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মরক্কোর। সেই হারের বদলা নেওয়ার সুযোগ এসেছিল আবার। দুই দেশের রাজনৈতিক ও পোস্ট-কলোনিয়াল ইতিহাসের আবহে ম্যাচটি ছিল শুধুই ফুটবল নয়, আবেগেরও লড়াই। কিন্তু ইতিহাস বদলাতে পারল না ‘অ্যাটলাস লায়ন্স’। কিলিয়ান এমবাপ্পে ও উসমান দেম্বেলের গোলে ২-০ জিতে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মরক্কোর স্বপ্ন ভেঙে সেমিফাইনালে উঠে গেল ফ্রান্স।
প্রথমার্ধে অবশ্য ফরাসি আধিপত্য সত্ত্বেও গোলের দেখা মেলেনি। ৬৩ শতাংশ বলের দখল রেখে একের পর এক আক্রমণ শানিয়েছিলেন এমবাপ্পে, দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়ে। ২৫ মিনিটে ভিএআর যাচাইয়ের পর পাওয়া পেনাল্টি থেকেও গোল করতে পারেননি এমবাপ্পে। তাঁর দুর্বল শট অসাধারণ দক্ষতায় আটকে দেন ইয়াসিন বোনো। এরপরও একাধিক নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করে ফ্রান্স। ডিগনের দূরপাল্লার শট লাগে ক্রসবারে। অন্যদিকে পাল্টা আক্রমণে ব্রাহিম দিয়াজ ও আশরাফ হাকিমিরা কয়েকবার চেষ্টা করলেও উইলিয়াম সালিবার নেতৃত্বে ফরাসি রক্ষণ ছিল অটুট।
বিরতির পর ছবিটা বদলে যায়। আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে দিদিয়ের দেশঁর দল। ৬০ মিনিটে তিন ডিফেন্ডারের ফাঁক গলে বক্সের বাইরে থেকে দুরন্ত বাঁক খাওয়ানো শটে গোল করে ফ্রান্সকে এগিয়ে দেন এমবাপ্পে। চলতি বিশ্বকাপে এটি তাঁর অষ্টম গোল। এর পর মাত্র ৬ মিনিটেই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দেম্বেলে। মাইকেল ওলিসের পাস থেকে এমবাপ্পের নিখুঁত ওয়ান-টাচ সেট-আপ কাজে লাগিয়ে নিচু শটে বোনোকে পরাস্ত করেন তিনি। ৭৭ মিনিটে এমবাপ্পেকে তুলে নিয়ে ঝুঁকি এড়ান দেশঁ। সেমিফাইনালের কথা মাথায় রেখেই তারকা ফরওয়ার্ডকে বিশ্রাম দেন ফরাসি কোচ।
শেষ দিকে মরক্কো মরিয়া চেষ্টা চালালেও গোলের মুখ খুলতে পারেনি। আশরাফ হাকিমি, আজেদিন উনাহি ও এল আইনাউইদের সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়। তবু মরক্কোর লড়াইয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ইয়াসিন বোনো। তাঁর একের পর এক দুরন্ত সেভ না থাকলে ব্যবধান আরও বড় হতে পারত। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই স্পষ্ট হয়ে যায়, ৪ বছর আগের ক্ষতের উপশম হল না মরক্কোর। সত্যিই ফুটবল বড়ই নিষ্ঠুর খেলা। যখন যাকে দেয়, দুহাত ভরিয়েই দেয়। কিন্তু যাকে দেয় না, তার দিকে ফিরেও চায় না।




