নিউজ ডেস্ক: নদিয়ার ফুলিয়ায় গভীর রাতে বাড়িতে ঢুকে এক গৃহবধূকে নৃশংসভাবে খুনের অভিযোগ উঠেছে। মৃতার নাম মিতালি বিশ্বাস (৪০)। অভিযোগ, বাড়ির বাইরে থেকে মাটি খুঁড়ে ঘরে প্রবেশ করে দুষ্কৃতীরা। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় মিতালিকে ইট দিয়ে মুখে আঘাত করা হয়। গুরুতর রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
রবিবার গভীর রাতে নদিয়ার ফুলিয়ার প্রফুল্লনগর-নবলা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গিয়েছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ঘটনার সময় বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে ছিলেন। মিতালি একটি ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। পাশের ঘরে ছিলেন তাঁর ছেলে ও পুত্রবধূ।
পরিবারের অভিযোগ, গভীর রাতে আচমকা মায়ের ঘর থেকে শব্দ শুনতে পান মিতালির ছেলে। সন্দেহ হওয়ায় তিনি নিজের ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা খুলতে গিয়ে দেখেন, সেটি বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি চিৎকার করে প্রতিবেশীদের ডাকতে থাকেন।
চিৎকার শুনে দ্রুত আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বাইরে থেকে বন্ধ থাকা দরজা খুলে তাঁরা মিতালির ঘরে ঢোকেন। সেখানে রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরিস্থিতি দেখে দ্রুত তাঁকে রানাঘাট মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর পর চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের দাবি, বাড়ির বাইরে থেকে মাটি খুঁড়ে দুষ্কৃতীরা ভিতরে ঢুকেছিল। এরপর প্রথমে মিতালির ছেলের ঘরের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর মিতালির ঘরে ঢুকে তাঁকে ঘুমন্ত অবস্থায় ইট দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।
তবে ঠিক কী কারণে এই হামলা চালানো হল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ব্যক্তিগত শত্রুতা, পুরনো কোনও বিবাদ নাকি অন্য কোনও উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, সেই বিষয়েও এখনও নিশ্চিত তথ্য মেলেনি।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। একইসঙ্গে প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। বাড়িতে কীভাবে দুষ্কৃতীরা ঢুকল, মাটি খোঁড়ার বিষয়টি সত্যি কি না এবং ঘটনার সঙ্গে কতজন জড়িত ছিল—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এলাকায় এমন ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। রাতের অন্ধকারে বাড়িতে ঢুকে একজন গৃহবধূকে খুনের অভিযোগ ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে নিরাপত্তা নিয়ে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত হামলার প্রকৃত কারণ বা অভিযুক্তদের পরিচয় নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। পুলিশ এখন দ্রুত ঘটনার রহস্যের কিনারা করার চেষ্টা করছে।