নিউজ ডেস্ক: দেবীপক্ষের সূচনাতেই উৎসবের চেনা মেজাজে ফিরল তিলোত্তমা। একদিকে ইডেনের জমকালো আয়োজনে মহালয়ার উদযাপন, অন্যদিকে শারদোৎসবের আবহে ভোল বদলাচ্ছে শহরের একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন দক্ষিণ কলকাতার গড়িয়াহাট ব্রিজ। হলুদ ও লালের মিশেলে রঙিন হয়ে উঠেছে ব্যস্ত এই উড়ালপুলের পিচঢালা পথ। রবিবার সেই কাজের অগ্রগতি সরেজমিনে খতিয়ে দেখতে গড়িয়াহাটে পৌঁছান রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানে দাঁড়িয়ে শহরবাসীর উদ্দেশে তিনি বার্তা দেন, এই পথ আসলে "ভ্রাতৃত্ব, ভালোবাসা এবং পারস্পরিক বিশ্বাসের রাস্তা।"
রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রশাসনিক স্তরে রঙের বদলও চোখে পড়ছে স্পষ্ট। বিগত তৃণমূল জমানার চেনা নীল-সাদা আবহ সরিয়ে এখন শহরের রেলিং, ডিভাইডার ও রাস্তায় প্রাধান্য পাচ্ছে হলুদ ও সাদার যুগলবন্দি। তবে গড়িয়াহাট ব্রিজে লাল-হলুদের বিন্যাস সাধারণ পথচারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে বিশেষভাবে।
https://x.com/Kamru_Choudhury/status/2109141882748195317?s=20
পরিদর্শন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুরমন্ত্রী বলেন, "মানুষ বিপুল জনসমর্থন দিয়ে আমাদের দায়িত্ব দিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকারের ওপর জনগণ যে গভীর আস্থা ও বিশ্বাস রেখেছেন, এই রাজপথ সেই বিশ্বাসের প্রতীক।" তিনি আরও জানান, শুধু দক্ষিণ কলকাতা নয়, একইভাবে সেজে উঠেছে রেড রোড এবং গঙ্গার ঘাটগুলিও। পুজোর দিনগুলিতে সাধারণ মানুষকে শহর ঘুরে দেখার আন্তরিক আহ্বান জানান তিনি।
উৎসবে রাজপথকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে আলপনা আঁকার বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। পার্ক সার্কাস কানেক্টরের নিচের অংশে ইতিমধ্যেই বিশাল এলাকা জুড়ে আলপনা আঁকা হয়েছে। শনিবার স্বয়ং অগ্নিমিত্রা সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজে হাতে তুলি ধরে নকশা ফুটিয়ে তোলেন।
তিনি জানান, গড়িয়াহাট ফ্লাইওভারের উপরিভাগ এবং নিচের চার মাথার মোড়েও নকশা আঁকার কাজ চলছে। সময় পেলে পুজোর আগেই রাসবিহারী এবং পার্ক স্ট্রিট মোড়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ জংশনগুলিতেও একইভাবে আলপনা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুর দপ্তরের।
উৎসবের মরসুমে শহরের ভাঙাচোরা রাস্তা নিয়ে নাগরিকদের ভোগান্তি যাতে না বাড়ে, সে বিষয়েও কড়া বার্তা দেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী। তিনি আশ্বাস দেন, বোধনের আগেই শহরের সমস্ত ক্ষতিগ্রস্ত ও খানাখন্দে ভরা রাস্তা পুরোপুরি মেরামত করে মসৃণ করা হবে। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে। শারদোৎসবের প্রাক্কালে শহরবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঐতিহ্যের সঙ্গে নতুন রঙের মেলবন্ধনে এবার আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে কলকাতা।
