নিউজ ডেস্ক: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে উত্তাল দিল্লি। শুক্রবার সকালে দিল্লিতে যন্তরমন্তর চত্বরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ জমায়েত করে আম আদমি পার্টি। অনুমতি ছাড়া জমায়েতের কারণে আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ-সহ একাধিক কর্মী-সমর্থককে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এবার রাজধানীতে আটক SFI-এর সৃজন ভট্টাচার্য।
গান্ধী জয়ন্তীর দিন দিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভে শামিল হলেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, ছাত্র সংগঠনের সদস্য এবং সমাজকর্মীরা। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছিল দিল্লি পুলিশ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে বিক্ষোভস্থলের দিকে এগোতে থাকেন আন্দোলনকারীরা। শেষ পর্যন্ত আইসা সভানেত্রী নেহা বোরা এবং আম আদমি পার্টির একাধিক শীর্ষ নেতা-সহ ৫০০-রও বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করেছে পুলিশ। আটক হওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন আপ নেতা সৌরভ ভরদ্বাজ, সঞ্জীব ঝা, অতিশী এবং সঞ্জয় সিং। ছিলেন আরজেডি সাংসদ মনোজ ঝা-ও। নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সরব হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে। সেই অনিয়মের অভিযোগের জবাব দিতে হবে নির্বাচন কমিশনকে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে যন্তর মন্তরের আশপাশে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়। ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয় একাধিক রাস্তা। এমনকি বিক্ষোভকারীদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে ড্রোনও ব্যবহার করে পুলিশ। সকাল থেকেই মেট্রো পরিষেবাতেও বিধিনিষেধ জারি করা হয়। জনপথ, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট, রাজীব চক-সহ মোট ১১টি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ বন্ধ রাখা হয়। অন্য দিকে, মধ্য দিল্লির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
দিল্লির পাশাপাশি শুক্রবার বিক্ষোভের আঁচ ছড়ায় মুম্বইয়েও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে শিবাজি পার্কে ‘জেল ভরো’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল ককরোচ জ়নতা পার্টি (সিজেপি)। দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে এই কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এসআইআর প্রক্রিয়া বন্ধ করা, ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ স্থগিত রাখা এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনার দাবিও তুলেছে সংগঠনটি। তবে শিবাজি পার্কে বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি মুম্বই পুলিশ। তা সত্ত্বেও শুক্রবার দুপুরে সেখানে পৌঁছন সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস। বিক্ষোভ ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়।
সম্প্রতি, ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত অন্তর্তদন্তমূলক প্রতিবেদনে নতুন করে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতাকে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটির অন্দরে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিংহ সঁধু এবং বিবেক জোশীর তোলা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলেছেন। যা নিয়ে রীতিমতো বিতর্কের ঝড় উঠেছে রাজ্য রাজনীতিতে।
