নিউজ ডেস্ক: রাতের অন্ধকারে ছুটছে বাস। আর তখন গভীর ঘুমে ডুবে রয়েছেন যাত্রীরা। আচমকাই বাসের ভিতর বিকট শব্দ। তার পর মুহূর্তের মধ্যেই চারপাশে আগুন আর ধোঁয়া। প্রাণ বাঁচাতে কেউ জানলা দিয়ে ঝাঁপ দিলেন। কেউ হুড়োহুড়ি করে দরজা দিয়ে বেরোনোর চেষ্টা করলেন। তবু শেষরক্ষা হল না। বুধবার গভীর রাতে উত্তরপ্রদেশের গ্রেটার নয়ডায় যমুনা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে মৃত্যু হল অন্তত ৯ জনের। মৃতদের মধ্যে একজন মহিলাও রয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েক জন। পুলিশ সূত্রে খবর, বাসটিতে মোট ৩৫ জন যাত্রী ছিলেন। তাঁদের অধিকাংশই এই ভয়াবহ ঘটনার সময় ঘুমিয়ে ছিলেন।
দেখুন: https://x.com/RShivshankar/status/2102937509370220842?s=20
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, বাসের এয়ার কন্ডিশনিং ব্যবস্থায় বিস্ফোরণ থেকেই আগুন লেগে থাকতে পারে। সেই আগুন ইঞ্জিনের লুব্রিকেটিং অয়েলে ছড়িয়ে পড়ে দ্রুতই ভয়াবহ আকার ধারণ করে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। প্রাথমিকভাবে শর্ট সার্কিটের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দিল্লি থেকে উত্তরপ্রদেশের মাহোবা যাচ্ছিল দোতলা বাসটি। যমুনা এক্সপ্রেসওয়ের ওপর আচমকাই আগুন ধরে যাওয়ার পর গোটা বাসটি মুহূর্তের মধ্যেই দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ভিতরে আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
জনৈক যাত্রী জানিয়েছেন, ঘুমের মধ্যেই দরজায় ধাক্কার শব্দে ঘুম ভেঙেছিল তাঁর। চোখ খুলেই দেখেন চারপাশে বিশাল ভিড় এবং ধোঁয়া। কোনও জিনিসপত্র নেওয়ার সুযোগ পাননি তিনি। এমনকি জুতোও পরার সময় মেলেনি। শুধু মোবাইল ফোনটি নিয়ে কোনও রকমে জ্বলন্ত বাস থেকে বেরিয়ে আসেন। তাঁর কথায়, ধোঁয়ায় কিছুই দেখা যাচ্ছিল না ভালো করে। ধোঁয়ার জেরে ভিতরে থাকা সকল যাত্রীরই শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। বাইরে বেরোনোর জন্য তাঁদের মধ্যে শুরু হয় তীব্র ঠেলাঠেলি। অনেকে জানলা দিয়েও বেরোনোর চেষ্টা করেন। দেরিতে বেরোতে পারায় পিছনে থাকা বেশ কয়েকজন যাত্রী আর বেরোতে পারেননি বলেই আশঙ্কা ওই যাত্রীর।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী এবং জেওয়ার থানার পুলিশ। শুরু হয় উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ। আহতদের দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতির খোঁজ নেন এবং মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। আহতদের যথাযথ চিকিৎসার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি মৃতদের পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছেন তিনি। বাসে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ ও দমকল।
