ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ এখন শেষ লগ্নে। আর মাত্র দুটি সেমিফাইনাল, তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ এবং ফাইনাল বাকি। সেমিফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, স্পেন এবং ইংল্যান্ড। তবে আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে অশান্তির জল্পনা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। সেই জল্পনার মাঝেই দলের অধিনায়ক হ্যারি কেন স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, দলের মধ্যে কোনও বিভাজন বা মতবিরোধ নেই।
এই বিতর্কের সূত্রপাত কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিরুদ্ধে ইংল্যান্ডের জয়ের পর। ম্যাচ জিতলেও দলের পারফরম্যান্স নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ইংল্যান্ডের প্রধান কোচ টমাস তুচেল। তাঁর মতে, দল নিজেদের সেরা ছন্দে খেলতে পারেনি এবং কিছুটা ভাগ্যের সহায়তাতেই জয় এসেছে।
কোচের এই মন্তব্যের পর পাল্টা প্রতিক্রিয়া দেন দলের তারকা ফুটবলার জুড বেলিংহ্যাম। তিনি বলেন, ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় খেলতে কতটা কঠিন, তা মাঠে থাকা ফুটবলাররাই সবচেয়ে ভালো বোঝেন। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দলের ইতিবাচক পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। এই দুই ভিন্ন মন্তব্যের পর থেকেই ইংল্যান্ড দলের অন্দরমহলে মতভেদের জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে।
তবে সেই সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়েছেন অধিনায়ক হ্যারি কেন। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, কোচ কী বলতে চেয়েছেন, তা দলের সবাই বুঝতে পেরেছেন। মাঠে থাকা ফুটবলাররা নিজেদের পারফরম্যান্স সম্পর্কে সচেতন। কখন ভালো খেলা হয়েছে, আর কোথায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, সেটাও দলের সকলেই জানেন। তাঁর কথায়, মতের অমিল থাকলেই দলের মধ্যে ভাঙন তৈরি হয়েছে, এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।
কেন আরও বলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় প্রতিযোগিতায় প্রতিটি ম্যাচের পর পারফরম্যান্স নিয়ে আলোচনা হওয়াই স্বাভাবিক। সেই আলোচনাকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা না করার আবেদনও জানান তিনি। তাঁর মতে, দলের লক্ষ্য এখন শুধুই আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে সেরা খেলাটা উপহার দেওয়া।
এদিকে ২৪ বছর পর বিশ্বকাপে মুখোমুখি হতে চলেছে ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। শেষবার ২০০২ সালের বিশ্বকাপে দুই দলের লড়াইয়ে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টির গোলে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। সেই স্মৃতি এবারও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে ইংরেজ শিবিরকে।
১৯৬৬ সালের পর আর বিশ্বকাপ জেতেনি ইংল্যান্ড। দীর্ঘ ৬০ বছরের অপেক্ষা ঘোচানোর স্বপ্ন নিয়েই এবার মাঠে নামবেন হ্যারি কেনরা। তাই সেমিফাইনালের আগে সব বিতর্ক ভুলে এখন পুরো দলের নজর শুধু একটি লক্ষ্যেই, আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা।