নিউজ ডেস্ক: দুর্গাপুরে বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সরাসরি বামেদের নিশানা করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামোর বেহাল দশার জন্য শুধু তৃণমূল সরকারকে দায়ী করা ঠিক নয় বলে দাবি করে তাঁর বক্তব্য, এই অবক্ষয় এক দিনের নয়। বিধানচন্দ্র রায়ের সময়ের পর থেকেই ধাপে ধাপে তা তৈরি হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘‘তৃণমূলকে দোষ দেওয়ার আগে বামেদের দোষ দিন। বামেরা সব জানে। তাদের শেখানো যায় না।’’
দুর্গাপুরের বিধাননগরে একটি বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের উদ্বোধনে এসে স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুরনো অবস্থা নিয়ে সরব হন মন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকার এবং তার পরের ১৫ বছরের তৃণমূল সরকারের সময়— দু’পর্বেই সরকারি স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর নানা দুর্বলতা তৈরি হয়েছে। একের পর এক হাসপাতাল ও পরিষেবার পরিকাঠামো দুর্বল হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সেই পরিস্থিতি বদলের কাজ এখন শুরু হয়েছে। তবে দীর্ঘদিনের সমস্যা রাতারাতি মেটানো সম্ভব নয়, সময় লাগবে— দাবি মন্ত্রীর।
শুধু সরকারি হাসপাতালের পরিকাঠামো নয়, চিকিৎসকদের একাংশের ভূমিকা নিয়েও অনুষ্ঠানে সরব হন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রশাসনের নজরে থাকা কিছু চিকিৎসক আগেভাগেই সরকারি পদক্ষেপের খবর পেয়ে যাচ্ছেন। ফলে প্রশাসনের নজরদারি শুরু হওয়ার আগেই তাঁরা সতর্ক হয়ে যাচ্ছেন এবং ব্যবস্থা এড়িয়ে পালিয়ে যাচ্ছেন। কী ভাবে এই খবর বাইরে যাচ্ছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ব্লাড ব্যাঙ্ক নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। তার জবাবে স্বাস্থ্য দফতরের তরফে দাবি করা হয়, কোনও পরিষেবা বাতিল করা হয়নি। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নিয়ম মেনে পুনর্নবীকরণের প্রক্রিয়া চলছে। ফলে ব্লাড ব্যাঙ্কের পরিষেবা নিয়ে যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তার কারণ নেই বলেই স্বাস্থ্যকর্তাদের বক্তব্য।
এই প্রসঙ্গেই রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর সামগ্রিক ছবিও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, বর্তমানে রাজ্যে ২৬টি সরকারি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। আরও কয়েকটি মেডিক্যাল কলেজ তৈরির কাজ চলছে। বালুরঘাট এবং কালিম্পংয়েও মেডিক্যাল কলেজ তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মুখে। অর্থাৎ চিকিৎসা শিক্ষার পরিকাঠামো বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবাকেও ধাপে ধাপে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে বলে দাবি স্বাস্থ্য দফতরের।
তবে মেডিক্যাল কলেজ বাড়লেই হবে না, শিক্ষার মান ধরে রাখাটাই বড় চ্যালেঞ্জ— অনুষ্ঠানে সেই বার্তাই দেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম। তাঁর বক্তব্য, নতুন নতুন উদ্যোগের পাশাপাশি চিকিৎসা শিক্ষার গুণগত মান বজায় রাখার দিকে বিশেষ নজর প্রয়োজন। চিকিৎসা শিক্ষার ক্ষেত্রে বাংলার দীর্ঘ ঐতিহ্যের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
স্বাস্থ্যসচিবের বক্তব্যে উঠে আসে আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পের প্রসঙ্গও। তাঁর দাবি, রাজ্যে দ্রুত গতিতে ওই প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে এবং প্রতিদিন প্রায় ৩,০০০ মানুষ তার সুবিধা পাচ্ছেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষও এই পরিষেবার আওতায় আসছেন বলে জানান তিনি। পাশাপাশি রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য বিমা সংক্রান্ত কাজও এগিয়ে চলছে বলে জানান স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।
সব মিলিয়ে দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের উদ্বোধনী মঞ্চে এক দিকে নতুন চিকিৎসা-শিক্ষা পরিকাঠামো গড়ে তোলার দাবি, অন্য দিকে সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুরনো দুর্বলতার দায় নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর— দুই-ই সামনে এল। আর সেই বিতর্কে বামফ্রন্টের দীর্ঘ শাসনকালকেই নিশানা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা, বর্তমান স্বাস্থ্যব্যবস্থার সমস্যার দায় শুধু তৃণমূল সরকারের নয়।