নিউজ ডেস্ক: দিনে দুপুরে হাসপাতালে ঢুকে বাচ্চা চুরি! ঘটনাটি ঘটেছে ব্যারাকপুর ডাক্তার বিএম বসু মহকুমা হাসপাতালে। ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়৷ একইসঙ্গে সরকারি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়েও কার্যত উঠছে প্রশ্ন।
জানা গিয়েছে, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ঘুমন্ত নবজাতককে রেখে শৌচালয়ে গিয়েছিলেন মা। তাঁর সদ্যোজাত সন্তানও সেখানে চিকিৎসাধীন ছিল। অভিযোগ, সেই সুযোগে এক মহিলা শিশু ওয়ার্ডের ভিতরে ঢুকে পড়েন। এরপর ঘুমন্ত শিশুটিকে কাপড়ে মুড়ে কোলে তুলে নেন তিনি। শিশুটিকে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালের কর্মী এবং ওয়ার্ডে থাকা অন্যদের সন্দেহ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তাঁর পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
ওই মহিলার সঙ্গে শিশুটির কী সম্পর্ক, কেন তিনি শিশুটিকে নিয়ে যাচ্ছেন—এমন নানা প্রশ্ন করতে শুরু করেন তাঁরা। প্রথমে মহিলা বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও তাঁর কথাবার্তায় অসঙ্গতি ধরা পড়ে বলে হাসপাতাল সূত্রে দাবি। এরপর তাঁকে আটকে রেখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে খবর দেওয়া হয়। ঘটনার কথা জানানো হয় পুলিশকেও।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছে যায়। এরপর ওই মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে ওই মহিলার গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর শিশুটিকে উদ্ধার করে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গিয়েছে। পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ওই মহিলা একা ছিলেন না। তাঁর সঙ্গে আরও এক ব্যক্তি ছিল বলে জানা যায়। পরে তাকেও গ্রেফতার করা হয়েছে।
শিশুর মা বলেন, 'দুধ খাইয়ে শুইয়েছিলাম। তারপর আমি উঠে শৌচালয়ে গিয়েছিলাম। সেই ফাঁকেই আমার বাচ্চাটাকে নিয়ে চলে গিয়েছিল। আমি শৌচালয় থেকে বেরিয়ে দেখি আমার বাচ্চা বেডে নেই। তারপর আশেপাশের সকলের কাছ থেকে সবটা জানতে পারি। কিছুক্ষণের মধ্যে আমার বাচ্চাকে ফিরিয়ে এনেছে হাসপাতালের কর্মীরা।'
প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পরিকল্পনা করেই শিশুটিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে ঠিক কী উদ্দেশ্যে নবজাতককে নিয়ে পালানোর চেষ্টা, এর পিছনে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। ঘটনায় হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। শিশু ওয়ার্ডের মতো সংবেদনশীল জায়গায় কীভাবে বাইরের এক মহিলা ঢুকে পড়লেন, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের সঙ্গে শিশুটির পরিবারের আগে কোনও পরিচয় ছিল কি না, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।