নিউজ ডেস্ক: মহালয়া আসতে আর বেশি দিন বাকি নেই। মহালয়ার মধ্য দিয়েই শুরু দেবীপক্ষ। বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব হলো দুর্গাপুজো। আপামর সমস্ত বাঙালিরা এই উৎসবটি মহাজাকজমকের সঙ্গে আয়োজন করে থাকে। দুর্গাপুজোর শেষদিন অর্থাৎ বিজয়া দশমীতে নিয়ম মেনে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন মহিলারা। কিন্তু হাওড়ার সাঁকরাইলের পালবাড়ির ছবিটা একেবারেই আলাদা। এখানে দশমীর অপেক্ষা করা হয় না। মহাষ্টমীর দিনই বাড়ির দুর্গামণ্ডপে শুরু হয়ে যায় সিঁদুর খেলা। বহু বছর ধরে চলে আসা এই রীতি আজও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করে চলেছেন পরিবারের সদস্যরা।
পালবাড়ির দুর্গাপুজোর ইতিহাসও বেশ পুরনো। প্রায় দেড়শো বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বাড়িতে দেবী দুর্গার আরাধনা হয়ে আসছে। পরিবারের পূর্বপুরুষ চূড়ামণি পাল আন্দুল রাজপরিবারের দেওয়ান ছিলেন বলে জানা যায়। পরবর্তীতে রাজপরিবারের কাছ থেকে জমি পাওয়ার পর রাজগঞ্জ এলাকায় পাল পরিবারের বসতবাড়ি তৈরি হয়। সেখানেই শুরু হয় দুর্গাপুজো। শোনা যায়, একসময় এই বাড়ির বড় ছেলে ললিতচন্দ্র পাল মাত্র ১৮ বছর বয়সে মারা গিয়েছিলেন। দিনটি ছিল মহাষ্টমী। সেদিনই বাড়িতে মরদেহ রেখে সিঁদুর খেলা-সহ যাবতীয় নিয়ম সম্পন্ন করে বিসর্জন দেওয়া হয়েছিল দেবীকে। তারপর থেকেই অষ্টমীতে এই বাড়িতে সিঁদুর খেলা হয়। গ্রামের সধবারাও তাতে অংশ নেন।
অষ্টমীতে সিঁদুর খেলার পাশাপাশি এই পুজোর বেশ কিছু রীতিও রয়েছে। দুর্গাপুজো হয় সম্পূর্ণ বৈষ্ণব মতে। এখানে জন্মাষ্টমীর দিন কাঠামো পুজো করা হয়। আর মহালয়ার পরদিন প্রতিপদ থেকে শুরু হয় ঘটপুজো। ষষ্ঠীতে হয় দেবী দুর্গার বোধন। ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত বাড়িতে নিরামিষ আহার। নবমী শেষ হওয়ার আগেই হয় কুমারী পুজো। দশমীর দিন দেবীকে কাঁধে করে নিয়ে গিয়ে গঙ্গায় বিসর্জন দেওয়ার রীতি। পুজোর ক’দিন গোটা গ্রামের মানুষেরা এই পালবাড়িতেই খাওয়া দাওয়া করেন। আলোয় সেজে ওঠে গোটা পালবাড়ি। দেশ-বিদেশ থেকে অতিথিরা আসেন দেবী মায়ের দর্শনে।
সময় বদলালেও পুজোর বহু প্রাচীন রীতি এখনও অটুট। একচালার প্রতিমা, বৈষ্ণব মতে পুজো এবং পারিবারিক পরম্পরা মেনেই সম্পন্ন হয় দেবীর আরাধনা। পুজোর কয়েকটা দিন দূরে থাকা পরিবারের সদস্যরাও পুরনো বাড়িতে ফিরে আসেন। অষ্টমীর দিন সিঁদুর খেলার পাশাপাশি বিশেষ ভোগের ব্যবস্থাও থাকে। পালবাড়ির পুজো তাই শুধুমাত্র ধর্মীয় উৎসব নয়, পরিবারের দীর্ঘ ইতিহাস ও আবেগের সঙ্গেও জড়িয়ে থাকা এক পরম্পরা।
