নয়া দিল্লি: বিরোধী INDIA জোটের ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠক ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে প্রস্তাবিত বৈঠকে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব নিজে উপস্থিত থাকছেন না বলে খবর। তাঁর পরিবর্তে দলের কোনও সিনিয়র নেতা বৈঠকে যোগ দিতে পারেন। তবে অখিলেশের অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে দলের তরফে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসভা ভোটের প্রস্তুতির ব্যস্ততার কথা জানানো হয়েছে।
অখিলেশের অনুপস্থিতিকে ঘিরে অবশ্য রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ২০২৭ সালের উত্তরপ্রদেশ বিধানসভা নির্বাচন সামনে রেখে সমাজবাদী পার্টি ও কংগ্রেসের আসন সমঝোতা এবং ভবিষ্যৎ সমীকরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে অখিলেশ নিজেই সম্প্রতি কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁদের জোট ‘শক্তিশালী’ বলে মন্তব্য করেছেন।
অন্যদিকে, ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠক মূলত নির্বাচন কমিশন এবং ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR) নিয়ে বিরোধীদের পরবর্তী কর্মসূচি ঠিক করার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে। একাধিক বিরোধী দল নির্বাচন কমিশনের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানিয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকও হওয়ার কথা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নজর কেড়েছে তৃণমূল এবং সিপিএমের সাম্প্রতিক যোগাযোগও। পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল ও সিপিএমের মধ্যে SIR ইস্যুতে আলোচনা শুরু হয়েছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিপিএমের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবির সঙ্গে কথা বলেছেন বলে একাধিক প্রতিবেদনে প্রকাশ। বিরোধী দলগুলিকে একসঙ্গে আন্দোলনে নামার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানা গিয়েছে।
৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য হতে চলেছে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং SIR নিয়ে বিরোধীদের পরবর্তী রাজনৈতিক কর্মসূচি।
তবে বৈঠকে কারা থাকবেন, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। সংবাদমাধ্যমের রিপোর্ট অনুযায়ী, কংগ্রেসের সঙ্গে বিভিন্ন রাজ্যে নির্বাচনী সমীকরণে থাকা একাধিক দলের অবস্থান এক নয়। বিশেষ করে পঞ্জাবের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির মধ্যে দূরত্ব রয়েছে। অন্যদিকে, ডিএমকেও কংগ্রেসের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আলাদা অবস্থান নিয়েছে।
ফলে ৩০ সেপ্টেম্বরের বৈঠক শুধুমাত্র SIR বা নির্বাচন কমিশন-বিরোধী কর্মসূচি নির্ধারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি বিরোধী দলগুলির পারস্পরিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়েও নতুন কোনও বার্তা দেবে, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের। এখন অখিলেশের পরিবর্তে সমাজবাদী পার্টি কাকে পাঠায় এবং বৈঠকে বিভিন্ন শরিক দলের উপস্থিতি কতটা হয়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
