নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আত্মনির্ভরতার লক্ষ্যে আরও এক ধাপ এগোল নরেন্দ্র মোদী সরকার। ডিআরডিও-র প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ বার বেসরকারি সংস্থার হাতে দেওয়া হচ্ছে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনের বরাত। ইতিমধ্যেই বেসরকারি সংস্থাগুলিকে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনে প্রবেশের অনুমতি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।
একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এর পরই ১০০০ থেকে ১৫০০ কিলোমিটার পাল্লার লং রেঞ্জ ল্যান্ড অ্যাটাক ক্রুজ মিসাইল এবং ১৫০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পাল্লার প্রলয় ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য বেসরকারি সংস্থাগুলিকে চিহ্নিত করার কাজ শুরু হয়েছে। ডিআরডিও-র কাছ থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশীয় সংস্থাগুলি এই অস্ত্র উৎপাদন করবে।
ইতিমধ্যেই ১১০ কিলোমিটার পাল্লার অস্ত্র এবং ১৫০ কিলোমিটার পাল্লার অ্যাস্ট্রা মার্ক-২ ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির জন্য বেসরকারি ক্ষেত্রকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আইকম, ভারত ফোর্জ, আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড টেকনোলজিস, ভারত ডায়নামিক্স এবং ভারত ইলেকট্রনিক্সের মতো সংস্থাগুলি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে যুক্ত হতে পারে। তালিকায় রয়েছে ১০০ থেকে ৩০০ কিলোমিটার পাল্লার নেক্সট জেনারেশন অ্যান্টি-রেডিয়েশন মিসাইল, ৩০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার রুদ্রম-২, ইউএভি-লঞ্চড প্রিসিশন গাইডেড মিসাইল এবং ১০০ কিলোমিটার পাল্লার লং রেঞ্জ গ্লাইড বোমাও।
শুধু স্থলভিত্তিক ক্ষেপণাস্ত্র নয়। নৌবাহিনীর জন্যও একাধিক অস্ত্রের উৎপাদনে বেসরকারি সংস্থাকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৫ কিলোমিটার পাল্লার স্বল্পপাল্লার নৌ-অ্যান্টি-শিপ মিসাইল, ৩৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পাল্লার মাঝারি পাল্লার অ্যান্টি-শিপ মিসাইল এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি পাল্লার লং রেঞ্জ অ্যান্টি-শিপ মিসাইল। পাশাপাশি ২৫-৩০ কিলোমিটার পাল্লার কুইক রিঅ্যাকশন গ্রাউন্ড-টু-এয়ার মিসাইল এবং ৮ কিলোমিটার পাল্লার ভেরি শর্ট রেঞ্জ এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমও রয়েছে পরিকল্পনায়।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে প্রতিরক্ষা উৎপাদনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বলেই মনে করা হচ্ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদনে বেসরকারি ক্ষেত্রকে প্রবেশাধিকার দেওয়াকে ভবিষ্যতে কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র ক্ষেত্রেও বেসরকারি অংশগ্রহণের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৫০টি সাব-সিস্টেম ইতিমধ্যেই বেসরকারি সংস্থাগুলি সরবরাহ করছে। ফলে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ার পাশাপাশি দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প, সহযোগী সংস্থা এবং সামগ্রিক সামরিক শিল্পভিত্তি আরও শক্তিশালী হবে। ‘আত্মনির্ভর ভারত’-এর লক্ষ্যে মোদী সরকারের এই পদক্ষেপ তাই প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।