স্পোর্টস ডেস্ক: অবশেষে অপেক্ষার অবসান। মঙ্গলবার এশিয়ান গেমসের তৃতীয় দিনেই ভারতের জন্য সোনার দরজা খুলে দিলেন হরমনপ্রীত কৌররা। মহিলাদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানে উড়িয়ে দিয়ে এশিয়ান গেমসের মহিলা ক্রিকেটে নিজেদের স্বর্ণপদক ধরে রাখল ভারত। শুধু তাই নয়। এই জয়ের সুবাদে দিন দশেক আগের এশিয়া কাপ ফাইনালের পুনরাবৃত্তি ঘটাল উইমেন ইন ব্লু। প্রথমে ব্যাট করে ভারতের নারী বাহিনী তোলে ২০ ওভারে ৩ উইকেটে ২১৬ রান। এশিয়ান গেমসের মহিলা ক্রিকেটে এটাই সর্বোচ্চ দলীয় স্কোর। জবাবে শ্রীলঙ্কার ইনিংস শেষ মাত্র ৬৯ রানেই।
দলকে বড় রানের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি ভার্মা। শুরু থেকেই শ্রীলঙ্কার বোলিংকে কার্যত ছন্নছাড়া করে দেন দুই ওপেনার। পাওয়ার প্লে-তেই বিনা উইকেটে ভারত তুলে ফেলে ৬৭ রান। মান্ধানা অর্ধশতরান করেন মাত্র ৩০ বলেই। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ৭৯ রান করে ফেরেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চার ও সাতটি ছক্কা। অন্যদিকে শেফালি করেন ২৯ বলে ৪৮। প্রথম উইকেটের জুটিতে দুই ওপেনার তোলেন ৯৯ রান। শেষ দিকে রিচা ঘোষের ঝোড়ো ব্যাটিং দলকে পার করিয়ে দেয় ২০০ রানের গণ্ডি।
শেষ দুই ওভারে রীতিমতো ঝড় তোলেন বঙ্গতনয়া রিচা। চার নম্বরে নেমে মাত্র ২২ বলে ৪৯ রানে অপরাজিত রয়ে যান ভারতীয় উইকেটকিপার-ব্যাটার। তাঁর ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা। শেষ ওভারেই রিচার ব্যাট থেকে আসে দু’টি বিশাল ছক্কা ও একটি চার। এ ছাড়া ১৭ বলে ১৯ রান করেন ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীতও। সব মিলিয়ে ফাইনালেই এশিয়াডের ইতিহাসে সর্বাধিক দলীয় স্কোরের রেকর্ড গড়ে ফেলে ভারত। এর পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি দ্বীপরাষ্ট্র। অধিনায়িকা চামারি আতাপাত্তু ২১ বলে ২৯ রান করলেও বাকিরা কার্যত দাঁড়াতেই পারেননি ভারতীয় বোলিংয়ের সামনে।
ভারতের বোলারদের দাপটও ছিল ব্যাটারদের মতোই। শেফালি এবং দীপ্তি শর্মা ২টি করে গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। শ্রেয়াঙ্কা পাতিল ও শ্রী চরণির খাতায় একটি করে উইকেট। তাঁদের সামনে ৪৩ রানে তৃতীয় উইকেট হারানোর পর একেবারেই তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে শ্রীলঙ্কার ইনিংস। একের পর এক উইকেট হারিয়ে শেষ পর্যন্ত ১৫.৪ ওভারেই অলআউট তারা। ফলে ১৪৭ রানের বিশাল জয়ে চলতি এশিয়াডে প্রথম সোনাজয় ভারতের। গত বারও মহিলাদের ক্রিকেটে সোনা জিতেছিল ভারত। সেই খেতাব এ বারও ধরে রাখলেন হরমনপ্রীতরা। পাশাপাশি কয়েকদিন আগে এশিয়া কাপ ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে হারানোর ধারাও বজায় রাখলেন তাঁরা।




