স্পোর্টস ডেস্ক: ভারত-পাক ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা। তার উপর এশিয়ান গেমসের সোনার লড়াই। তবে শনিবার নিসশিনের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর লড়াইয়ে বরাবরের মতো শেষ হাসি হাসল ভারতই। পাকিস্তানকে ১৯ রানে হারিয়ে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সোনা জিতে নিল শ্রেয়স আইয়ারের দল। প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ভারত তুলেছিল ২১১ রান। জবাবে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯২ রানেই থেমে গেল পাকিস্তানের লড়াই। শেষ ওভারে তাদের জয়ের জন্য দরকার ছিল ৩৩ রান। কিন্তু সেই চাপের মুহূর্তে বল হাতে ওয়াশিংটন সুন্দর ঠান্ডা মাথায় ম্যাচ শেষ করেন। এশিয়ান গেমসে পুরুষদের ক্রিকেটে টানা দ্বিতীয়বার সোনা জিতল ভারত। চলতি এশিয়াডে এটি ভারতের ১৯ তম সোনার পদক।
ভারতের জয়ের ভিতটা তৈরি হয়ে গিয়েছিল ব্যাটিংয়ের সময়ই। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেন অধিনায়ক শ্রেয়স। শুরুতেই অবশ্য ধাক্কা খায় ভারত। মাত্র ১৫ রান করে ফিরে যান ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। তবে সেই ধাক্কা সামলে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন অভিষেক শর্মা। মাত্র ২০ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ২৮ বলে ৬১ রান করে ফেরেন অভিষেক। তাঁর ইনিংসে ছিল একাধিক চার ও ছক্কা। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টিতে ছক্কার সংখ্যাতেও নতুন নজির গড়েন ভারতীয় ওপেনার। এই ম্যাচের আগে বিরাট কোহলির ১১টি ছক্কার রেকর্ড ছিল ভারত-পাক দ্বৈরথে সর্বোচ্চ; অভিষেক সেই সংখ্যাকে ছাপিয়ে যান। অভিষেকের ঝড়ের পর ঈশান কিষাণ করেন ২০ রান এবং অধিনায়ক আইয়ার ২১। ফলে মাঝের ওভারে কিছুটা গতি হারালেও শেষদিকে ফের ঝড় তোলেন তিলক ভার্মা এবং শিবম দুবে।
শেষদিকে তিলকের ব্যাটে ফের বিস্ফোরণ। মাত্র ২১ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। অপরাজিত ৫১ রানের ইনিংসে ছিল একাধিক বাউন্ডারি এবং বড় শট। অন্য প্রান্তে ১৪ বলে ২৭ রান করে ভারতকে ২০০ পার করানোর কাজটি করেন দুবেও। ১৯ তম ওভারে দুবে ও তিলকের ব্যাট থেকে আসে ২৩ রান। দুয়ের আক্রমণে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সামনে দাঁড়ায় এক পাহাড়সম লক্ষ্য। পাকিস্তানের হয়ে আহমেদ দানিয়াল এবং আরাফাত মিনহাস নেন দু’টি করে উইকেট। ২১২ রান তাড়া করতে নেমে অবশ্য শুরুটা খারাপ করেনি পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই জশপ্রীত বুমরাহর বলে ১১ রান আসে। তবে ওয়াশিংটন সুন্দর দ্রুত সাহিবজাদা ফারহানকে ১০ রানে ফিরিয়ে দেন। এরপর অক্ষর পটেল পর পর উসমান খান এবং মাজ সাদাকতকে আউট করে পাকিস্তানকে চাপে ফেলে দেন।
তবে ম্যাচ তখনও ভারতের হাতের বাইরে চলে যায়নি। হাসান নওয়াজ এবং সাইম আয়ুব মিলে পাল্টা লড়াই শুরু করেন। বিশেষ করে নওয়াজ ভারতীয় বোলারদের উপর চড়াও হন। মাত্র ২৮ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করেন তিনি। মাঝের ওভারে পাকিস্তানের রান দ্রুত বাড়তে থাকে। এমন সময় শিবম দুবে ২৯ রানে সাইম আয়ুবকে ফিরিয়ে স্বস্তি দেন মেন ইন ব্লু-কে। নওয়াজের সঙ্গে আব্দুল সামাদ জুটি গড়ে আবারও ম্যাচ জমিয়ে দেন। ১৭ ওভারে পাকিস্তানের রান পৌঁছে যায় ১৬০-এ। শেষ তিন ওভারে দরকার ছিল ৫২ রান। কিন্তু ১৮ তম ওভারে সামাদকে ৯ রানে ওয়াশিংটন সুন্দর ফেরাতেই ভারতের দিকে ম্যাচের পাল্লা ভারী হয় ফের। ১৯ তম ওভারে বুমরার বলে ১১ রান এলেও শেষ ওভারে পাকিস্তানের সামনে ছিল ৩৩ রানের অসম্ভব কঠিন সমীকরণ। ওয়াশিংটন সুন্দর সেই ৩৩ রান আটকে দিয়ে ভারতকে এনে দেন ১৯ রানের জয়। রুদ্ধশ্বাস ফাইনালের শেষে ফের এশিয়াডের ক্রিকেটে সোনার মুকুট ভারতের মাথায়।
