নয়াদিল্লি, নিউজ ডেস্ক: পাকিস্তানের নাশকতামূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ভারতের তরফ থেকে সর্বোচ্চ প্রতিরোধ ছিল অপারেশন সিঁদুর। এই অপারেশন সিঁদুর গুঁড়িয়ে দিয়েছিল জঙ্গি ঘাঁটি গুলি। গতকাল মঙ্গলবার, প্রাক্তন চি ফ অফ ডিফেন্স স্টাফ (CDS)-র জেনারেল অনিল চৌহান এই 'বিশেষ সামরিক অপারেশন'টির কৌশল এবং এই অপারেশনের নেপথ্যে থাকা সিদ্ধান্তগুলি সম্পর্কে নতুন তথ্য দিয়েছেন।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ৭ই মে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারত এই অভিযান করেছিল। প্রকৃতপক্ষে এই অভিযান ছিল কাশ্মীরের পহেলগামে পর্যটকদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিশোধ। ভারতীয় বাহিনী পাকিস্তান এবং পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে (পিওকে) সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তিন বাহিনীর সমন্বয়ে এক যৌথ আক্রমণ করে। শেষ পর্যন্ত ইসলামাবাদ যুদ্ধবিরতির অনুরোধ জানায়।
নয়াদিল্লির 'বিবেকানন্দ সেন্টার' এক অনুষ্ঠান আয়োজিত করে।ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে চৌহান জানান, 'অপারেশন সিঁদুর-র একটি মূল নীতি ছিল সংঘাত বা উত্তেজনার পরিস্থিতিতে চূড়ান্ত আঘাতটি যেন ভারতই হানে, তা নিশ্চিত করা।' তিনি আরও বলেন- ‘সংঘাতের মাত্রা বৃদ্ধির যে রূপরেখা আমরা নিজেদের জন্য তৈরি করেছিলাম, তার অন্যতম একটি নীতি ছিল-চূড়ান্ত আঘাত বা বিজয়ের শেষ পদক্ষেপটি যেন সর্বদা আমাদেরই হয়, পাকিস্তানের নয়।’
'অপারেশন সিঁদুর'র সময় সিডিএস (CDS)-র দায়িত্বে ছিলেন চৌহান জানান পাকিস্তান আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করার পর ভারতীয় বিমান বাহিনীর প্রধান তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে সারগোধায় হামলা চালানো উচিত কি না। চৌহান বলেন, ‘সকাল ১০টার দিকে পাকিস্তানিরা ফোন করে আলোচনার ইচ্ছা প্রকাশ করে। বিমান বাহিনীর প্রধান আমাকে জিজ্ঞেস করলেন সারগোধায় হামলা চালানো ঠিক হবে কি না। আমি বললাম, এগিয়ে যান। আমি বিমান বাহিনীকে আরও দুটি লক্ষ্যবস্তু চিহ্নিত করতে বলেছিলাম। তখন তারা স্কার্দুকে একটি লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করে। আমরা তাতে সম্মতি দিয়েছিলাম, কিন্তু কিছু সময় পর সেখানে আবহাওয়া খারাপ হয়ে যাওয়ায় তাদের লক্ষ্য পরিবর্তন করে ভোলারিকে বেছে নিতে হয়েছিল।’
পাক জঙ্গিদের হানায়; ভারতীয় মা বোনেদের যে সিঁদুর মুছে গেছিল, তার পাল্টা জবাব দিয়েছিল কেন্দ্রের সরকার। একারনেই অনিল চৌহানের এই মন্তব্যে, ভারতের বিশেষ সামরিক অভিযান গুলির অন্যতম 'অপারেশন সিঁদুর' একটি বিশেষ মাত্রা পেয়েছে।