কলকাতা, নিউজ ডেস্ক: ছাব্বিশের বিধানসভার নির্বাচনের পর ভাঙন ধরেছে তৃণমূলের অন্দরে। ভরাডুবির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের সঙ্গ ছেড়েছেন একের পর এক বিধায়কেরা। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের প্রতীক চিহ্ন হারিয়েছেন মমতা। শেষমেষ তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ থেকে পদত্যাগ করা কোয়েল মল্লিকও এখন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। এবার দলছাড়াদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলছাড়া নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘এখনও যাঁরা ফিরতে চান, তাঁদের বলব তাঁদের ১৫ দিনের মধ্যে ফিরে আসতে হবে৷'
উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে তৃণমূলের কর্মসূচিকে ঘিরে ফের প্রকাশ্যে এল দলের অন্দরের রাজনৈতিক সমীকরণ। কমলাগাঁও-সুজালি এলাকায় আয়োজিত দলীয় সভায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখার পাশাপাশি সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দেন তিনি। অন্যদিকে, সভায় উপস্থিত থেকে দলের সাংগঠনিক পরিস্থিতি নিয়ে বক্তব্য রাখেন শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে মমতা বলেন, 'যাঁরা কোনও কারণে তৃণমূল ছেড়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরে গিয়েছেন, তাঁদের জন্য দলের দরজা এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ফিরে আসতে চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়ার বার্তা দেন তিনি। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াইয়ে দলীয় সংগঠনকে আরও সক্রিয় করার উপর জোর দেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। মমতা আরও বলেন, 'নেতারা নয়, সাধারণ কর্মীরাই দলের মূল শক্তি। ১৯৯৮ সালে যেভাবে তিনি দল গড়ে তুলেছিলেন, সেভাবেই আবার তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে পারবেন বলেও দাবি করেন তিনি।'
বক্তব্যে ভারতের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও তিনি সরব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা অভিযোগ করে বলেন, 'নির্বাচন কমিশনের প্রধান হিসেবে জ্ঞানেশ কুমার যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন বিজেপি ক্ষমতায় থাকবে। একইসঙ্গে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি। মমতার মতে, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া বিরোধীদের ইন্ডিয়া জোট শক্তিশালী হতে পারে না। বিজেপিকে মোকাবিলা করতে হলে তৃণমূলকে শক্তিশালী করতে হবে।
মমতার এই বক্তব্যের প্রসঙ্গ সভায় তুলে ধরেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ইসলামপুরের বিধায়ক কানাইয়ালাল আগরওয়ালের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে দলের কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। নির্বাচনে জয় পাওয়ার পর কোনও জনপ্রতিনিধি দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে অন্য রাজনৈতিক শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন কি না, তা নিয়েও কর্মীদের সজাগ থাকার কথা বলেন কল্যাণ।
