নিউজ ডেস্ক: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের একটি বিমানকে মাঝআকাশে গুলি করে নামানোর প্রস্তুতি নিয়েছিল ইজরায়েলি বাহিনী! মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস নিউজের প্রতিবেদনে এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। বিমানটিতে প্রায় ১৫০ জন ইজরায়েলি নাগরিক থাকা সত্ত্বেও সম্ভাব্য বড়সড় নাশকতা ঠেকাতে এমন চরম সিদ্ধান্তের জন্য প্রস্তুত ছিল ইজরায়েল। ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, বিমানের সহ-পাইলট হামাম আল-হাম্মামির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। তদন্তকারীদের জেরায় তিনি নাকি স্বীকার করেছেন, ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে হত্যা করে বিমানটি ইচ্ছাকৃত ভাবে ভেঙে ফেলাই ছিল তাঁর পরিকল্পনা। তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল তেল আভিভের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দর। সেখানে বিমানটি নিয়ে গিয়ে বড়সড় প্রাণহানি ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
তদন্ত সূত্রের আরও দাবি, বিমানবন্দরে পৌঁছনো সম্ভব না হলে তেল আভিভ শহরের কোনও উঁচু ভবনে বিমানটি আছড়ে ফেলার পরিকল্পনাও করেছিলেন অভিযুক্ত সহ-পাইলট। ফলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
এই সম্ভাব্য বিপদ আঁচ করেই বিমানটিকে ধ্বংস করার প্রস্তুতি নিয়েছিল ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ বলে দাবি সূত্রের। বিমানটি তেল আভিভের দিকে যাওয়ার সময় আচমকাই প্রায় ১৪ হাজার ফুট নীচে নেমে যায়। এরপর ইজরায়েলি বায়ুসেনা বিমানের ককপিটের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু সেই সময়ে ককপিট থেকে কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
এর পরেই পরিস্থিতিকে সম্ভাব্য হাইজ্যাক হিসেবে ধরে একটি কমান্ড সেন্টার তৈরি করা হয়। ফ্লাইদুবাইয়ের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানও পাঠানো হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। তবে ইজরায়েলের আকাশসীমা থেকে প্রায় ৬৫০ কিলোমিটার দূরে থাকতেই ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানটি আচমকা সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলিকেও ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
সূত্রের দাবি, বিমানটি যদি ইজরায়েলের আকাশসীমায় প্রবেশ করত, তাহলে যুদ্ধবিমানগুলি কাছ থেকে সেটির পরিস্থিতি যাচাই করত। হাইজ্যাকের বিষয়টি নিশ্চিত হলে প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হত। প্রচলিত প্রোটোকল অনুযায়ী, বিমান ধ্বংসের মতো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে শুধু ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর।
তবে গোটা ঘটনার বিষয়ে ইজরায়েলি সরকারের তরফে এখনও বিস্তারিত সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে তদন্তে উঠে আসা এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
