আলিপুরদুয়ার: পুজোর মরশুমে ডুয়ার্সে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন? জঙ্গল-সাফারির পাশাপাশি এবার পর্যটকদের জন্য অপেক্ষা করছে নতুন এক আকর্ষণ। শান্তিনিকেতনের সোনাঝুরি হাটের আদলে আলিপুরদুয়ারের জলদাপাড়ায় চালু হল ‘জলদাপাড়া পর্যটন হাট’। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে রবিবার শালবাগান এলাকায় এই হাটের উদ্বোধন করেন আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক ময়ূরী ভাসু।
শালগাছে ঘেরা প্রাকৃতিক পরিবেশে গড়ে ওঠা এই হাটে ডুয়ার্সের স্থানীয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য, হস্তশিল্প এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার নানা দিক তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পর্যটকেরা শুধু কেনাকাটাই নয়, এই হাটের মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের স্থানীয় সংস্কৃতির সঙ্গেও পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবেন।
ইস্টার্ন ডুয়ার্স ট্যুরিজমের উদ্যোগে আপাতত প্রতি বৃহস্পতিবার এই হাট বসবে। এর পিছনে রয়েছে একটি নির্দিষ্ট কারণও। বৃহস্পতিবার জলদাপাড়ায় গাড়ি ও হাতি সাফারি বন্ধ থাকে। একইসঙ্গে জলদাপাড়া, কোদালবস্তি-সহ একাধিক জঙ্গল পর্যটকদের জন্য বন্ধ থাকে। ফলে ওই দিন পর্যটকদের জন্য বিকল্প বিনোদন ও ঘোরার জায়গা তৈরি করতেই এই হাটের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০টি স্টল নিয়ে শুরু হয়েছে ‘জলদাপাড়া পর্যটন হাট’। সেখানে মিলছে স্থানীয়ভাবে তৈরি নানা পণ্য। হাতে তৈরি গয়না, বিভিন্ন ধরনের শাড়ি, চাদর, স্থানীয় নুনিয়া চাল, মধু-সহ একাধিক সামগ্রী পর্যটকেরা কিনতে পারবেন। ফলে ডুয়ার্স ভ্রমণের স্মৃতি হিসেবে স্থানীয় পণ্য সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়ার সুযোগও থাকছে।
খাবারের আয়োজনও এই হাটের অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় মহিলাদের তৈরি পিঠা-পায়েস থেকে শুরু করে মাছের বিভিন্ন পদ—সবই থাকছে মেনুতে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছে তোর্সা নদীর বোরলি মাছের পদ। অর্থাৎ কেনাকাটার পাশাপাশি ডুয়ার্সের স্থানীয় স্বাদের খাবারও চেখে দেখতে পারবেন পর্যটকেরা।
এই উদ্যোগের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের আর্থিক স্বনির্ভরতার বিষয়টিও জড়িয়ে রয়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় মহিলাদের তৈরি হস্তশিল্প ও খাবারের মাধ্যমে তাঁদের আয়ের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা। পর্যটকদের চাহিদা বাড়লে ভবিষ্যতে স্থানীয় শিল্পী, কারিগর, কৃষক এবং ছোট ব্যবসায়ীরাও এর সুফল পেতে পারেন।
আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক জানিয়েছেন, আগামী দিনে এই হাটকে আরও উন্নত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে স্টলের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি আরও বেশি স্থানীয় পণ্য ও সাংস্কৃতিক আয়োজন যুক্ত হতে পারে।
জলদাপাড়া এমনিতেই জঙ্গল, বন্যপ্রাণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়। তার সঙ্গে এবার যুক্ত হল স্থানীয় সংস্কৃতি, খাবার ও হস্তশিল্পের এই নতুন ঠিকানা। পুজোর মরশুমে ডুয়ার্সে পর্যটকদের ভিড় বাড়লে ‘জলদাপাড়া পর্যটন হাট’ কতটা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে, এখন সেটাই দেখার।
