দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক : রোদ উঠেছে, আকাশটা অনেকটাই পরিষ্কার। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে, দুর্যোগের কালো মেঘ কেটে গিয়েছে। কিন্তু, দ্বীপের মানুষজনের কাছে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক নয়। বরং প্রতিদিনের মতোই ঘরের সামনে দাঁড়িয়েও তাঁরা বুঝতে পারছেন না, পরের মুহূর্তে আদেও তাঁদের ঘরবাড়ি থাকবে কি না। চতুর্থদিনেও নদী ও সমুদ্রের জলকে ঘিরে সেই আশঙ্কায়ই তাড়া করে বেড়াচ্ছে পাথরপ্রতিমার (Pathoratima) গোবর্ধনপুরের বাসিন্দাদের।
অর্ণবের (Arnab) প্রভাব অনেকটাই কেটে গিয়েছে তবে, তার ক্ষত এখনও সারেনি। আকাশে রোদ উঠেছে। রোদ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও স্পষ্ট হয়েছে দুর্বল নদী বাঁধের চেহারা। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনার (North 24 Pargan) পাথরপ্রতিমার গোবর্ধনপুরে এখনও কাটেনি দুর্যোগের আতঙ্ক। চতুর্থ দিনেও বঙ্গোপসাগরের জল ও নদীর করাল গ্রাস অব্যাহত। কোথাও বাঁধের মাটি আলগা, কোথাও জল ঢুকে তৈরি হয়েছে নতুন করে ভাঙ্গনের আশঙ্কা। যত রোদ বাড়ছে, ততই চোখের সামনে দুর্বল হয়ে পড়ছে নদীবাঁধ। উদ্বেগে দিন কাটছে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের।
রাতটা কোনওমতে ফ্লাড (flood) সেন্টারে কাটানোর পর সকাল হতেই ফের ঘরের পথে মানুষ। মধ্য থেকে হাতরে হাতরে কেউ মাথায় লটাকম্বল, কেউ প্রয়োজনীয় সামগ্রী, আবার কেউ সঙ্গে নিয়ে গবাদি পশুনিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে। নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় ছুটে চলেছেন তাঁরা। ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গোবর্ধনপুরের বিপজ্জনক এলাকা থেকে প্রায় ২২ টি পরিবারের সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তবে, এখনও বেশ কয়েকটি পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে চাইছে না। চারদিকে জল, ভাঙনের আশঙ্কা তার মধ্যেই শেষ আশ্রয়টুকু নিজেদের ভিটেমাটি আঁকড়ে পড়ে রয়েছেন তাঁরা।
দুর্যোগের মধ্যে নতুন করে বেশ কয়েকটি সমস্যা তৈরি হয়েছে। সবচেয়ে বড় সমস্যা পানীয় জল নিয়েও। মাত্র এক সপ্তাহ আগেও যে নলকূপ থেকে এলাকার মানুষ পানীয় জল সংগ্রহ করতেন, নদীবাঁধ ভাঙনের ফলে সেটি এখন মূল রাস্তা থেকে প্রায় ৩০০ মিটার দূরে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। সরকারি উদ্যোগে পাইপলাইনের মাধ্যমে জল পৌঁছনোর ব্যবস্থা করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, জল নেওয়ার জায়গাটিও জলমগ্ন হয়ে রয়েছে। ফলে, এলাকার গৃহবধূদের জলময় পরিবেশের মধ্যেই কোনওরকমে জল সংগ্রহ করে পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, নদীবাঁধ মেরামত ও স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি দীর্ঘদিনের। তাঁদের দাবি, আগের সরকারের সময়ে তৎকালীন বিধায়ক সমীর কুমার জানা একাধিকবার পুনর্বাসন এবং পাকাপোক্ত নদীবাঁধ তৈরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু, ভোটের পর সেই প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবে রূপ পায়নি বলে অভিযোগ তাঁদের। তাঁদের অভিযোগ, পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হলেও বর্তমান বিধায়ক একবারও এলাকায় দেখতেও আসেননি তাঁদের। যত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তত বিগত সরকারের বিধায়কের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন। ফলে, দুর্যোগ কেটে গেলেও গোবর্ধনপুরের সাধারণ মানুষের উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
