নিউজ ডেস্ক: চারদিকে থইথই করছে ঘোলা জল, আর তারই মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা একটি নড়বড়ে মাটির ঘরের চালা আঁকড়ে বসে একদল অসহায় মানুষ। যে কোনও মুহূর্তে তীব্র স্রোতে ভেঙে পড়তে পারত আস্ত কুঁড়েঘরটি। ঠিক সেই চরম বিপদের মুখে দেবদূতের মতো আকাশ থেকে নেমে এলেন ভারতীয় বায়ুসেনার জওয়ানরা। ছত্তীসগঢ়ের বস্তার জেলার দোঙ্গাঘাট গ্রামে ইন্দ্রাবতী নদীর তীর থেকে মহিলা ও শিশু-সহ মোট ১২ জন গ্রামবাসীকে নিরাপদে উদ্ধার করল ভারতীয় বায়ুসেনা।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ইন্দ্রাবতী নদীর জলস্তর হু হু করে বাড়তে শুরু করায় দোঙ্গাঘাট গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নিমেষেই প্লাবিত হয়ে পড়ে। উত্তর পাড়ে মাটির তৈরি বেশ কয়েকটি ঘর পুরোপুরি জলবন্দি হয়ে যায়। খবর আসে, ওই এলাকায় ১০ থেকে ১২ জন বাসিন্দা জলের তোড়ে আটকে পড়েছেন। চারপাশের পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল যে নৌকো বা সাধারণ ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে সেখানে পৌঁছনো অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে সময় নষ্ট না করে ভারতীয় বায়ুসেনার সেন্ট্রাল এয়ার কমান্ডকে উদ্ধারকাজে নামানো হয়।
জগদলপুরের আকাশ চিরে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে ওড়ে বায়ুসেনার কপ্টার। এলাকাটি পর্যবেক্ষণ করার সময় ক্রু সদস্যরা দেখতে পান, প্লাবিত জলের তীব্র ধাক্কায় একটি মাটির বাড়ি ক্রমশ তলিয়ে যাওয়ার মুখে। ঠিক তার খড় ও মাটির দুর্বল ছাদেই প্রাণভয়ে জড়াজড়ি করে বসে রয়েছেন কয়েকজন মানুষ। মাটির দেওয়াল যে কোনও মুহূর্তে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় দেরি না করে আকাশপথেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
https://x.com/ANI/status/2104412171598016951
নিচে উত্তাল জলস্রোত, ওপরে বিপজ্জনক গতিতে ঘুরছে কপ্টারের ব্লেড। ঠিক এই আবহেই শুরু হয় মূল উদ্ধারকাজ। কোনো রকমে নড়বড়ে চালাটির ওপর সুরক্ষিতভাবে নামিয়ে দেওয়া হয় বায়ুসেনার বিশেষ কমান্ডো দল 'গরুড়'-এর এক জওয়ানকে। তিনি ধ্বংসপ্রায় ছাদে পা রেখেই আতঙ্কগ্রস্ত মানুষদের সাহস জোগান এবং অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে একে একে তাঁদের সুরক্ষা বলয়ে বাঁধেন। এরপর উইঞ্চের সাহায্যে কপ্টারটিকে নির্দিষ্ট উচ্চতায় স্থির রেখে ঝুলন্ত তারের মাধ্যমে একে একে সবাইকে ওপরে টেনে তোলা হয়।
উদ্ধার হওয়া ১২ জনের মধ্যে একাধিক মহিলা ও ছোট শিশু রয়েছে। দীর্ঘক্ষণ মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে থাকার পর কপ্টারের নিরাপদ আশ্রয়ে পৌঁছে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন তাঁরা। স্থানীয় সূত্রের দাবি, বায়ুসেনা জওয়ানদের নিখুঁত সমন্বয় ও অসীম সাহসিকতা না থাকলে হয়তো আরও একটি বড়সড় মানবিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হতো না। উদ্ধারকাজের পরই তাঁদের নিরাপদ স্থানে এনে প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
