নিউজ ডেস্ক: তৃণমূলের দলীয় প্রতীক নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতা আপাতত কাটল না। আগামী পুরসভা নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ‘জোড়াফুল’ প্রতীক নিয়ে লড়তে পারবে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনই মিলছে না। সোমবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে নির্বাচন কমিশনকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চার মাস সময় বেঁধে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এর ফলে পুরভোটের আগে কমিশনের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। একই পরিস্থিতির মুখে পড়তে পারে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীও। অর্থাৎ, দুই শিবিরের কেউই এই মুহূর্তে পুরভোটে পুরনো তৃণমূলের নাম ও প্রতীক ব্যবহারের নিশ্চয়তা পাচ্ছে না।
তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে দলের নাম এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিবাদ পৌঁছয়। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী নির্দেশে ‘অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং দলের ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের ব্যবহার স্থগিত করে। কমিশনের বক্তব্য, তৃণমূলের মধ্যে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে এবং উভয় পক্ষই নিজেদের মূল দল হিসেবে দাবি করছে। পরবর্তী সময়ে উপনির্বাচনের জন্য দুই শিবিরকে পৃথক নাম ও প্রতীক দেওয়া হয়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীকে ‘মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম এবং ফুটবলারের প্রতীক দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, ঋতব্রতপন্থী গোষ্ঠীকেও আলাদা নাম ও প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী ময়দানে নামতে হচ্ছে। কালীঘাট শিবিরকে ফুটবল খেলোয়াড় প্রতীক এবং মমতা সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নাম দেওয়া হয়েছে৷ অন্যদিকে ঋতব্রত শিবিরকে খাম প্রতীক এবং গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস নাম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন৷ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই মতো, আজ সোমবার সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়।
এই পরিস্থিতিতে পুরসভা ভোটের আগে প্রতীক সংক্রান্ত নিষ্পত্তি না হলে প্রার্থীদের প্রচার ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিতেও তার প্রভাব পড়তে পারে। এরই মধ্য়ে সুপ্রিম কোর্টের সোমবারের নির্দেশের পর এখন কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর দুই শিবিরের। চার মাসের সময়সীমার মধ্যে কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার উপরই নির্ভর করবে তৃণমূলের পুরনো নাম ও প্রতীক ভবিষ্যতে কোন পক্ষ ব্যবহার করতে পারবে। ফলে ৬ অক্টোবরের উপনির্বাচনের আগে তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে কমিশনের সঙ্গে মমতা শিবিরের আইনি লড়াই কোন দিকে যায়, এখন সেই দিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের ।
