মালদা, নিউজ ডেস্ক : সকালটা শুরু হয়েছিল আর পাঁচটা দিনের মত। কিন্তু একটু বেলা হতেই একেবারেই পরিস্থিতি বদলে গেল। মুহূর্তেই সকালটা হয়ে গেল অন্যরকম। সোমবার সাতসকালেই চাঁচলে হল ED-র হানা ( Malda ED Raid)। চাঁচল-১ ব্লকের কলিগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের মুলাইবাড়ি এলাকায় শফিকুল ইসলাম ওরফে লিটনের বাড়িতে অভিযান চালায় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের আধিকারিকেরা। সকাল ৭ টা নাগাদ কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে পৌঁছন এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) আধিকারিকরা।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) সংক্রান্ত মামলার তদন্তেই এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে। শফিকুলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে বিপুল পরিমাণ প্রতারণার টাকা লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। সেই আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরেই এই তল্লাশি বলে প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে। চলছে নথিপত্র ও ব্যাঙ্ক লেনদেন খতিয়ে দেখার কাজ। তবে ED-র তরফে এখনও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইডির (ED) এই হানার পরেই গণতান্ত্রিক তৃণমূলের জাতীয় মুখপাত্র এবং চাঁচলের বিধায়ক প্রসূন ব্যানার্জির বলেন, 'মালদায় সাম্প্রতিক সময়ে আর্থিক লেনদেনে বাংলাদেশ যোগের অভিযোগ উঠে এসেছে।তাই ইডির উচিত সম্পূর্ণ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা। সাথে কেন্দ্রীয় এজেন্সির তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন চাঁচলের বিধায়ক।' তার এই মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠছে তবে কি সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের এই ঘটনায় কি বাংলাদেশের (Bangladesh) যোগ রয়েছে? উঠছে একাধিক প্রশ্ন, মিলছে না উত্তর।
তবে গ্রামের খুব সাধারণ যুবক হিসাবেই পরিচিত সফিকুল। অনেকেই মনে করছেন তাকে শুধু ব্যবহার করা হত কমিশনের বিনিময়ে। সামনে রয়েছে বড় কোনও মাথা। পূর্বের শাসক দলের নেতাদের কি কোনও যোগ রয়েছে এই ঘটনায় উঠছে এমন প্রশ্ন। যদিও অভিযান শেষ না হলে কোনও কিছুই স্পষ্ট ভাবে বোঝা যাচ্ছে না। যদিও ইডির পক্ষ থেকে কোনও বিবৃতি মেলেনি। শফিকুলের বাড়িতে থাকা বিভিন্ন নথিপত্র এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলির লেনদেন সংক্রান্ত তথ্য পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা (ED)।
রাজ্য জুড়ে একের পর এক ইডির হানা হতে দেখা গিয়েছে বিগত দিনেও। এবার সোমবার সাত সকালে মালদার চাঁচলে হল ইডির হানা। যদিও এই হানা সাধারণ একটি যুবকের বাড়িতে। চাষবাস করেই দিন কাটায় সে। বাবা পেশায় শিক্ষক ও মা অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী। এবার এই সাধারণ পরিবারের যুবকের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে। এমনকি তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট হয় ব্যবহার করে বিরাট অংকের আর্থিক লেনদেন হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। আর সেই কারণেই ইডির এই অভিযান বলে জানা গিয়েছে। যদিও কোনও কিছুই এই মুহূর্তে স্পষ্ট নয়।
সোমবার কেন্দ্রীয় বাহিনী ও ইডি আধিকারিকদের এই হানা কেন্দ্র করে মুলাইবাড়ি এলাকায় ব্যাপক ভিড় জমে যায় এবং গোটা চাঁচল জুড়ে চাঞ্চল্য ছড়ায়। এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে ও সাধারণ মানুষদের মধ্যে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
