নিউজ ডেস্ক: ক্যাম্পাসের ভেতর ছাত্রীকে গণধর্ষণের মারাত্মক অভিযোগ এবং তাকে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে পঞ্জাবের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সোমবার থেকে আগামী ১০ দিনের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত পঠনপাঠন স্থগিত ঘোষণা করা হয়েছে। পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে মিড-টার্ম পরীক্ষাও। ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল।
অশান্তির সূত্রপাত শনিবার রাতে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসের ৩ নম্বর হস্টেলের ৫০৪ নম্বর ঘরের এক আবাসিক ছাত্রী দলবদ্ধ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ করবে না এবং অভিযুক্তরা ছাড় পেয়ে যাবে এই আশঙ্কায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে নির্যাতিতা নিজের বাড়িতে ফিরে যান। ঘটনা জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। রবিবার বিক্ষোভের আঁচ ক্যাম্পাস ছাড়িয়ে পৌঁছায় সংলগ্ন জাতীয় সড়কে, দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল স্তব্ধ থাকে।
উত্তাল ক্যাম্পাসের ক্ষোভ প্রশমনে তড়িঘড়ি আসরে নামেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাতি। রবিবার একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষের তরফে দাবি করা হয়, গোটা অভিযোগটি ভিত্তিহীন এবং প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানির চক্রান্ত। সেই ভিডিওতে ওই একই হস্টেল কক্ষের তিন বর্তমান আবাসিক ছাত্রীকে বলতে শোনা যায়, বিগত দুই মাস ধরে তাঁরা সেখানে রয়েছেন এবং এমন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনাই ঘটেনি। তাঁরা পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের তাঁদের উত্যক্ত না করার আর্জিও জানান।
প্রশাসনের এই কৌশল কার্যত ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়ায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। সংশ্লিষ্ট তিন ছাত্রী সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি ভিডিও প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক দাবি করেন। তাঁদের অভিযোগ, তাঁদের চাপ দিয়ে এবং নির্দিষ্ট কিছু বয়ান মুখস্থ করিয়ে ওই ভিডিও রেকর্ড করানো হয়েছিল।
ছাত্রীরা বলেন, 'আমাদের বলা হয়েছিল যেন বলি পড়ুয়ারা আমাদের বিরক্ত করছে। উপরন্তু আমাদের বক্তব্যের বড় অংশ কেটে বাদ দিয়ে মনমতো সম্পাদনা করে ইনস্টাগ্রামে আপলোড করা হয়েছে, যার কোনো পূর্বানুমতি আমাদের কাছ থেকে নেওয়া হয়নি।' কোনো কারণ ছাড়াই তাঁদের বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে বলে ক্ষোভ উগরে দেন ওই আবাসিকরা।
ছাত্রীদের এই আকস্মিক পদক্ষেপে কর্তৃপক্ষ মুখে কুলুপ আঁটলেও ক্যাম্পাসে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। অভিযুক্তদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবিতে অনড় আন্দোলনকারীরা। পুলিশ জানিয়েছে, দায়ের হওয়া এফআইআরের ভিত্তিতে ক্যাম্পাসের সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদিও মূল অভিযুক্তদের পরিচয় এখনো স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি থমথমে থাকায় কড়া পুলিশি নজরদারিতে মুড়ে ফেলা হয়েছে গোটা চত্বর।
