দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নিউজ ডেস্ক: সোমবার সকাল থেকে গঙ্গাসাগরের কপিলমুনি মন্দির চত্বরে চোখে পড়ে বাড়তি নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তৎপরতা। আশ্রমের আশেপাশে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। সাধারণ দর্শনার্থীদের চলাচলের ওপরও ছিল বিশেষ নজরদারি। হঠাৎ করে কেন এই বাড়তি নিরাপত্তা, তা নিয়ে তৈরি হয় কৌতুহল। তবে, কিছুক্ষণের মধ্যে অবশ্য স্পষ্ট হয়ে যায় গোটা আয়োজনের কারণ।
সূত্রে খবর, বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন এদিন গঙ্গাসাগরে এসে পৌঁছন। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে সুন্দরবন পুলিশ জেলার তরফে কপিল মুনির আশ্রম সহ সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। ভিআইপি নিরাপত্তার পাশাপাশি মন্দিরে আসা সাধারণ পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থীদের গতিবিধির ওপরও নজরদারি রাখা হয়। গঙ্গাসাগরে পৌঁছে পুণ্যস্নান করেন নীতিন নবীন । এরপর কপিলমুনি মন্দিরে গিয়ে পুজো দেন তিনি। তাঁর সফর ঘিরে মন্দির চত্বরে ছিল পুলিশ নিরাপত্তার কড়া বলয়। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ গুলিতেও নজরদারি বাড়ানো হয়। কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগের থেকেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।
পুজো ও পুণ্যস্নান সেরে গঙ্গাসাগরে দাঁড়িয়েই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন। সেখানে তিনি বলেন, “গঙ্গাসাগরে এসে পুণ্যস্নানের সৌভাগ্য হয়েছে তাঁর। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ তাঁদের যে আশীর্বাদ দিয়েছেন সেই আশীর্বাদকে সঙ্গে নিয়ে রাজ্যের মানুষের সেবার সংকল্প পূরণে তাঁরা কাজ করে চলেছে বলেও জানান তিনি। একইসঙ্গে, এইদিন গঙ্গাসাগর মেলাকে জাতীয় মেলার স্বীকৃতি দেওয়ার দীর্ঘদিনের দাবির প্রসঙ্গ তুলেন তিনি। তাঁর কথায়, গঙ্গার এই তীরে গঙ্গাসাগরে জাতীয় মেলা আয়োজনের ইচ্ছে রয়েছে। এই দিশায় তাঁদের সরকার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি। স্থানীয় মানুষের বহুদিনের এই দাবি দ্রুত পূরণ হবে বলেও আস্থা দেন বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি।”
নীতিন নবীনের গঙ্গাসাগর সফর ঘিরে বিজেপি কর্মী সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যায়। স্থানীয় কর্মী সমর্থকদের একাংশ তাঁকে স্বাগত জানাতে উপস্থিত ছিলেন। ফলে, ধর্মীয় তীর্থস্থান গঙ্গাসাগরে এইদিন রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে তৈরি হয় বাড়তি তৎপরতা। অন্যদিকে, গোটা সফর নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে নিরাপত্তার দিকটিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব দেয় প্রশাসন। কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই কপিলমুনি আশ্রমে পুজো ও পুণ্যস্নান সেরে নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেন বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি।
নীতির নবীনের এই সফরকে ঘিরে সেজে উঠেছিল গঙ্গাসাগর। এলাকার মানুষদের মধ্যেও যথেষ্ট উৎসাহও উদ্দীপনা দেখতে পাওয়া গিয়েছিল।
