কলকাতা: শীত এলেই কলকাতা ও হাওড়ার বাতাসের মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। এবার সেই দূষণ নিয়ন্ত্রণে রাজ্যকে নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও সময়সীমা বেঁধে দিল কলকাতা হাইকোর্ট। পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকদের সঙ্গে আলোচনা করে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে একটি বিস্তারিত রোডম্যাপ তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভিথালরাও ঘুগে এবং বিচারপতি ওম নারায়ণ রাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হয়। আইনজীবী আকাশ শর্মার দায়ের করা জনস্বার্থ মামলার পাশাপাশি বায়ুদূষণ সংক্রান্ত আদালতের স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপও শুনানির আওতায় রয়েছে। মামলায় কলকাতা ও হাওড়ার বায়ুর গুণমান, বিশেষ করে শীতকালে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশ, শুধু নিয়মিতভাবে এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা AQI মাপলেই হবে না। দূষণ নিয়ন্ত্রণে কী কী নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নেওয়া হবে, কীভাবে সেই পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে এবং কোন কাজ কত দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে—তার বিস্তারিত পরিকল্পনা আদালতের সামনে রাখতে হবে। বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়েই এই নীতি ও রোডম্যাপ তৈরি করতে বলা হয়েছে।
এই নির্দেশের ক্ষেত্রে উৎসবের মরশুমও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সামনে দুর্গাপুজো-সহ একাধিক উৎসব। বাজি পোড়ানোর কারণে যাতে বায়ুদূষণের মাত্রা আরও বেড়ে না যায়, তার জন্য আগেভাগেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে রাজ্য সরকার ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবরের আদালতের নির্দেশের পরিপ্রেক্ষিতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে।
মামলার শুনানিতে রাজ্যের তরফে জানানো হয়েছে, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ প্রয়োজনীয় নীতি তৈরি করে সুপারিশ করলে রাজ্য সরকার সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ করবে। পর্ষদের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যে একটি সংক্ষিপ্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এবার আরও বিস্তারিত রিপোর্ট হলফনামা আকারে আদালতে জমা দিতে হবে।
আদালত স্পষ্ট সময়সীমাও নির্ধারণ করেছে। আগামী ১৩ অক্টোবরের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে নীতি, পদ্ধতি এবং বাস্তবায়নের সময়সীমা-সহ রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। এরপর ১৯ নভেম্বর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
অর্থাৎ, শীতের দূষণ পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ার আগেই প্রশাসনিক স্তরে নির্দিষ্ট পদক্ষেপের রূপরেখা তৈরি করার উপর জোর দিয়েছে আদালত। এখন দেখার, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ কী রোডম্যাপ আদালতের সামনে পেশ করে এবং সেই পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর করা যায়।
