নিউজ ডেস্ক: দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান। পুজোর আগেই হলদি নদীপথে শুরু হল নতুন যাত্রী পরিষেবা। সোমবার সকাল থেকে হলদিয়ার টাউনশিপ এবং নন্দীগ্রামের কেন্দামারি ফেরিঘাটের মধ্যে চলাচল শুরু করেছে আধুনিক ব্যাটারিচালিত জলযান ‘এমভি কনকলতা বড়ুয়া’। পরিষেবা চালু হওয়ায় নদীপথে যাতায়াত আরও সহজ হবে বলে আশা স্থানীয়দের। এদিন সকাল থেকে চালু হয়েছে এই পরিষেবা।
প্রশাসনিক প্রস্তুতির পাশাপাশি এই জলযানের পরীক্ষামূলক চলাচলও আগে সম্পন্ন হয়েছিল। ৫০ জন যাত্রী বহনে সক্ষম জলযানটিতে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা। সম্পূর্ণ ব্যাটারির সাহায্যে চলার কারণে এটিকে পরিবেশবান্ধব গণপরিবহণের একটি মাধ্যম হিসেবেই দেখা হচ্ছে। জলযানটি তৈরি করতে প্রায় ২৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। নতুন পরিষেবায় যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়া রাখা হয়েছে ৫ টাকা এবং ১০ টাকা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত পরিষেবা চালু রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও হলদিয়া সংলগ্ন এলাকার মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াতে এই জলপথ কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।
সূত্রের খবর, হলদিয়া থেকে প্রতিদিন ভোর ৪.২০ নাগাদ ছাড়বে। আর ভোর ৪.৪৫টা নাগাদ নন্দীগ্রাম থেকে ছাড়বে। শেষ ভেসেলটি হলদিয়া থেকে রাত ১১টা এবং নন্দীগ্রাম থেকে রাত ১১.৪৫ নাগাদ ছাড়বে। এতদিন নদীপথ পারাপারে নির্দিষ্ট ফেরি পরিষেবার উপর নির্ভর করতে হত এলাকার বহু মানুষকে। নতুন জলযান চালু হওয়ায় সেই যাতায়াত ব্যবস্থায় আরও একটি বিকল্প যুক্ত হল। বিশেষ করে নন্দীগ্রাম ও হলদিয়ার মধ্যে যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। পরিষেবা শুরুর প্রথম দিনেই জলযানে যাতায়াত করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ওয়াটার মেট্রো হল এমন একটি গণপরিবহণ ব্যবস্থা যেখানে নদী, খাল, হ্রদ বা জলপথ ব্যবহার করে নির্দিষ্ট রুটে আধুনিক ফেরি বা বৈদ্যুতিক নৌ-যানের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহণ করা হয়। এটি সাধারণ ফেরি পরিষেবার চেয়ে অনেক বেশি সংগঠিত, প্রযুক্তিনির্ভর এবং মেট্রো রেলের মতো সময়সূচি-ভিত্তিক পরিষেবা। দেশের প্রথম সফল ওয়াটার মেট্রো প্রকল্প ইতিমধ্যেই কেরলের কোচিতে চালু হয়েছে। সেই মডেল অনুসরণ করেই দেশের আরও একাধিক শহরে এই পরিষেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নতুন এই ওয়াটার মেট্রো চালু হলে শহরের রাস্তায় যানজট অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি দূষণ নিয়ন্ত্রণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
