নিউজ ডেস্ক: বাঙালির দুর্গা পুজো মানেই শপিং-এর জন্য সারাবছরের অপেক্ষা। এই সময় বাচ্চা থেকে বড়ো সবার মধ্যেই কেনাকাটা করতে যাওয়ার উত্তেজনা চোখে পড়ার মতো। আর কেনাকাটা মানেই সুন্দর সুন্দর জামাকাপড়, সঙ্গে মানানসই গয়না, জুতো, ব্যাগ, আরও কত কী! পুজোয় নতুন জামা তো সবাই পরে। কিন্তু এ বছর পুজোয় পুরনো পোশাককেই যদি নতুনভাবে উদযাপন করা যায় তাহলে কেমন হয় !
সকলের বাড়িতেই কমবেশি আলমারির মধ্যে সাজানো থাকে মা-দিদিমা-ঠাকুমার পুরোনো শাড়ি এবং তা সকল মেয়েদের কাছেই খুব প্রিয় হয়। তাতে জমে থাকে অনেক পুরোনো স্মৃতি, আবেগ ও অজস্র ছোটোবেলার গল্প। মায়েদের গন্ধমাখা পুরোনো শাড়ি আলমারি ঘেঁটে বার করলেই তা আমাদের নষ্টালজিক করে তোলে। সেই পুরোনো শাড়ি দিয়েই বানিয়ে নেওয়া যায় পুজোর নতুন লুক।
মায়ের পুরনো তাঁতের শাড়ির সঙ্গে আধুনিক কাটের ব্লাউজ, পুরনো সিল্কের সঙ্গে এক রঙের ব্লাউজ অথবা জামদানির সঙ্গে হাতকাটা কিংবা গলায় নতুন ধরনের নকশা করা ব্লাউজ বেছে নিতে পারেন।
এ ছাড়া, পুরনো শাড়ি দিয়ে বানিয়ে ফেলতে পারেন নতুন জামা, চুড়িদার, বা অন্য ধরনের কোনও ড্রেস। শাড়ির আঁচল ব্যবহার করে তৈরি করা যেতে পারে ওড়না। কিংবা কুর্তির উপরে পরার জ্যাকেট বানিয়ে তৈরি করতে পারেন নিজের মতো স্টাইল-স্টেটমেন্ট।
যে সব শাড়ি বহুদিনের ব্যবহারে অথবা আলমারিতে পড়ে থেকে জীর্ণ হয়ে পড়েছে, সেগুলোর টুকরো দিয়ে নকশা করতে পারেন নতুন পোশাকে। ফলে পুরনো শাড়ির ঐতিহ্য হারিয়ে না গিয়ে নতুন রূপ পাবে উৎসবের দিনে। নিজেই তৈরি করবেন তার ফলে জামাগুলো তো বিশেষ হবেই, ফিরে জড়িয়ে থাকবে অনেক স্মৃতি।
এ বার আসা যাক গয়নায়। জামাকাপড়ের পাশাপাশি
মায়ের পুরনো সোনার হার, ঠাকুমার ঝুমকো, দিদিমার চুড়ি—সব কিছুই নতুনভাবে ব্যবহার করতে পারেন। অষ্টমীর দিন লাল-সাদা শাড়ির সঙ্গে মানানসই হালকা ছিমছাম গয়না, সঙ্গে খোঁপায় ফুলের মালা পরলে বাঙালি সাজেই হয়ে উঠবেন অনন্যা। শাড়ির সঙ্গে পুরনো রুপোর দুল বা হারও পরতে পারেন।
একই শাড়ি হয়তো কোনও এক সময় পরেছিলেন আপনার মা, তারও আগে আপনার ঠাকুমা বা দিদিমা। এখন সেই শাড়িই আপনার পুজোর সাজে ফিরে এসে নতুন রূপ পাবে। নতুন শাড়ি-জামাকাপড়ের ভিড়ে মা-দিদিমা-ঠাকুমার পুরনো জামাকাপড় বেছে নেওয়া শুধু নতুন লুকে নিজেকে সাজানো নয় , সাথে পুরনো স্মৃতিকে নতুন প্রজন্মের জীবনে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও বটে। মা-দিদিমা-ঠাকুমার শাড়িতে যে ঐতিহ্য ও ভালোবাসা আছে তাতে আপনার পুজো হয়ে উঠবে আরও স্মরণীয়।
