পূর্ব বর্ধমান, নিউজ ডেস্ক: অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় বাড়ির ভেতর উদ্ধার তৃণমূল নেতার স্ত্রীর দেহ। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের জামুড়িয়া থানার সোনপুর গ্রামে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম পম্পা মণ্ডল (৪০)। মৃতার বাপের বাড়ি আসানসোলের সালানপুর থানা এলাকার সামডিতে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের স্বামীর নাম নরোত্তম মণ্ডল। যুব তৃণমূলের পাণ্ডবেশ্বর ব্লকের প্রাক্তন সভাপতি তথা তৃণমূল নেতা নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। মঙ্গলবার সকালে নরোত্তম ওরফে নিতাইয়ের বাড়ি থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখেন স্থানীয়রা। তারপরই সন্দেহের বশে তাঁর বাড়ির সঙ্গে থাকা একটি সিঁড়ি দিয়ে প্রতিবেশীরা ব্যালকনিতে ওঠেন ৷ সেখান থেকে দরজা খুলে দেখেন, অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় রয়েছেন নিতাইয়ের স্ত্রী পম্পা মণ্ডল। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় পুলিশকে।
এরপর কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য আসানসোল জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ঘটনার সময় নরোত্তম মণ্ডল বাড়িতে ছিলেন না। পরে তাঁকে ফোন করে ঘটনাস্থলে ডাকা হয় । কী কারণে এই ঘটনা ঘটল? তা জানতে তৃণমূল নেতা নরোত্তম মণ্ডলকে আটক করেছে জামুড়িয়া থানার কেন্দা ফাঁড়ির পুলিশ। শোনপুর গ্রামে তৃণমূল নেতার বাড়িতে পৌঁছে পুলিশ তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করেছে।
২০২৬-এ বিধানসভা নির্বাচনের পর ভোট-পরবর্তী হিংসা ও তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন নরোত্তম মণ্ডল। দীর্ঘদিন জেল হেফাজতে থাকার পর সম্প্রতি জামিনে মুক্তি পান। স্বামী জামিনে মুক্ত হয়ে ঘরে ফেরার পরই স্ত্রীর এমন রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।
পারিবারিক অশান্তি নাকি গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে? বাড়ির ভিতরের পরিস্থিতি, আগুন লাগার কারণ এবং ঘটনার আগে ও পরে কী হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রতিবেশীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এটি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা।
ঘটনার সঙ্গে কোনও রাজনৈতিক যোগ রয়েছে কি না, সেই সম্ভাবনাও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত পুলিশ বা তদন্তকারী আধিকারিকদের তরফে মৃত্যুর কারণ বা ঘটনার পিছনে কোনও নির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু জানানো হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।