ছাত্র আন্দোলন নিয়ে ভারতের রাজনীতি এই মুহূর্তে সরগরম। সদ্যই শেষ হয়েছে দিল্লির যন্তরমন্তরে 'নিট কেলেঙ্কারি' নিয়ে ছাত্র আন্দোলন। যাকে সমর্থন জুগিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি। এবং এই ককরোচ জনতার তীব্র দাবি মেনে শিক্ষামন্ত্রীর পদ থেকে সরে গেছেন ধর্মেন্দ্র প্রধান। কেন্দ্র সরকার বাকি দুই শর্তও মেনে নিয়েছে। কিন্ত, এই মুহূর্তে ছাত্র আন্দোলনের মুখ ঘুরে গেছে ঝাড়খণ্ডে। এবার প্রধানমন্ত্রীর জায়গায় 'টার্গেট' ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সরেন।
ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচিতে ২৫শে জুলাই থেকে কয়েক হাজার ছাত্র প্রতিবাদে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশন (JPSC) এবং ঝাড়খণ্ড স্টাফ সিলেকশন কমিশন (JSSC)-র পরীক্ষায় দুর্নীতি এবং অনিয়মের প্রসঙ্গ নিয়ে তারা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা দাবি জানাতে থাকেন কমিশনের পরিকাঠামোগত সংস্কার করতে হবে। এছাড়াও পরীক্ষা বাতিল করতে হবে এবং বাইরের রাজ্যের বিচারক দিয়ে প্যানেল গঠন করে নিরপেক্ষ বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। এক্ষেত্রে সিবিআই তদন্তের জন্যও ছাত্ররা আওয়াজ তোলেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতেই দিল্লির ছাত্র আন্দোলনে ছাত্রদের সমর্থনকারী কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্ব তথা সাংসদ রাহুল গান্ধীর মুখোমুখি হন সাংবাদিকরা। তাদের মূল প্রশ্ন ছিল 'দিল্লির ছাত্র আন্দোলন সমর্থন করলেন রাহুল গান্ধী, কিন্ত ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে তিনি চুপ কেন?' এই ঘটনায় রাহুল সেই প্রশ্ন এড়িয়ে যান।
ঘটনাটি নিয়ে বিজেপির সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর রাহুল গান্ধীর উদ্দেশ্যে প্রশ্ন করেন-' কংগ্রেসের কাছে ঝাড়খণ্ডের ছাত্র-যুবদের কোন মর্যাদা নেই?' এরই প্রতিক্রিয়ায় শিবসেনার সাংসদ সঞ্জয় রাউত বলেন আমি মনে করিনা রাহুল চুপ করে আছে। জনগণ, শিশু, অথবা যুবসমাজের ইস্যু নিয়ে রাহুল চুপ থাকবে; এটা মেনে নিতে পারি না।' তিনি ঝাড়খণ্ডের ছাত্র আন্দোলন নিয়ে মন্তব্য করেন 'অনেক জেন-জ়ি নেতা এখানে আসছেন। প্রয়োজনে আমরাও ওখানে যেতে পারি। কিন্ত, তারাই ঠিক করুন তারা কী করবেন। এটা একটা বিচ্ছিন্ন আন্দোলন। '
বেশ বোঝা যাচ্ছে ছাত্র আন্দোলনের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া এখনও চলবে। সেই সাথে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে রাহুল গান্ধীর এই প্রতিক্রিয়াতে।