কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেস থেকে বিজেপিতে যোগ দেওয়া রাজ্যসভার তিন সাংসদ— সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশচিক বরাইককে আপাতত কোনও বড় সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে না। বরং বিজেপির আদর্শ, সাংগঠনিক সংস্কৃতি এবং রাজনৈতিক কর্মপদ্ধতি সম্পর্কে তাঁদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গেরুয়া শিবির। আর সেই ‘রাজনৈতিক পাঠ’ পড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের উপর।
দলীয় সূত্রের খবর, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই এই তিন সাংসদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন শমীক। শুধু আনুষ্ঠানিক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়, বিজেপির সাংগঠনিক কাঠামো, মতাদর্শ, শৃঙ্খলা, কর্মপদ্ধতি এবং ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, তৃণমূল থেকে আসা এই নেতাদের দলীয় ভাবধারার সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে পরিচিত করিয়ে তোলার দায়িত্বই দেওয়া হয়েছে রাজ্য সভাপতিকে।
এর পাশাপাশি, তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ, যাঁরা বর্তমানে এনসিপিআই-এ (NCPI) যোগ দিয়েছেন, তাঁদের সঙ্গেও শমীক ভট্টাচার্যের বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বিজেপি সূত্রে খবর। সেই বৈঠকে ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সমীকরণ, বিরোধী রাজনীতিতে সমন্বয় এবং রাজ্যে সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলের একাংশের অনুমান। যদিও এই বিষয়ে বিজেপি বা সংশ্লিষ্ট নেতাদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
বিজেপির অন্দরের খবর, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর একাধিক পরিচিত মুখ গেরুয়া শিবিরে এলেও, দল এবার অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সতর্ক কৌশল নিয়েছে। দলবদল করেই যাতে কেউ গুরুত্বপূর্ণ পদ না পেয়ে যান, সেই বার্তা স্পষ্ট করতে চাইছে নেতৃত্ব। আগে দলের আদর্শ ও সাংগঠনিক সংস্কৃতির সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে হবে, তারপরই দায়িত্ব বণ্টনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিজেপি একদিকে যেমন নতুন মুখদের দলে আত্মস্থ করতে চাইছে, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের সংগঠনের কর্মীদের কাছেও একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে— দলীয় আদর্শ ও শৃঙ্খলাই সর্বাগ্রে, ব্যক্তিগত রাজনৈতিক পরিচয় নয়। সেই কারণেই তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের জন্য শুরু হচ্ছে একপ্রকার ‘রাজনৈতিক পাঠশালা’, যার দায়িত্বে রয়েছেন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।