নিউজ ডেস্ক: সময়ের চাকা ঘোরে, আর তার সঙ্গেই সম্ভবত বদলে যায় রাজনীতির সমীকরণ এবং মানুষের প্রতিক্রিয়া। একদা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সহযোগী, যাদবপুরের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ কবীর সুমনের গলায় শোনা গেল রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের ভূয়সী প্রশংসা। স্রেফ রাজনৈতিক স্তুতি নয়, প্রবীণ এই সঙ্গীতশিল্পীর মুগ্ধতার কারণ একান্তই প্রাত্যহিক নাগরিক পরিষেবা। এলাকার বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর তৎপরতায় দীর্ঘদিনের এক সমস্যার চটজলদি সমাধান পেয়েই সমাজমাধ্যমে নিজের ভালো লাগার কথা অকপটে ভাগ করে নিয়েছেন তিনি।
কলকাতা পুরসভার ১০০ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুমন সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি তুলে ধরেন তাঁর পাড়ার এক বাস্তব সমস্যার কথা। সুমনের কথায়, তাঁর বাড়ির পাশেই একটি প্রকাণ্ড গাছ রয়েছে, যা নিয়মিত না ছাঁটলে দুর্যোগের সময়ে নুয়ে পড়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে। পাশ দিয়েই চলে গিয়েছে হাই-টেনশন বিদ্যুতের তার। সম্প্রতি সেই গাছটি নিয়ে বড়সড় বিপত্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অথচ স্থানীয় কাউন্সিলরকে বহু চেষ্টা করেও ফোনে পাওয়া যায়নি। বাধ্য হয়েই এক পরিচিতের মারফত টালিগঞ্জের বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারীর যোগাযোগ নম্বর জোগাড় করেন শিল্পী।
তার পরের ঘটনাপ্রবাহে রীতিমতো অভিভূত সুমন। তাঁর দাবি, বিধায়ককে ব্যক্তিগত ভাবে চিনতেন না তিনি। তবু হোয়াট্সঅ্যাপে সমস্যার কথা জানাতেই বিন্দুমাত্র কালক্ষেপ করেননি পাপিয়া। দ্রুত পাঠানো হয় হাইড্রলিক ল্যাডার যুক্ত উঁচু গাড়ি। নিরাপত্তার সঙ্গে ডালপালা কেটে শুধু গাছটি ছাঁটাই করা নয়, সঙ্গে সঙ্গে সাফ করে দেওয়া হয় জমে থাকা সব পাতা ও আবর্জনাও। এমনকি পাড়ার বিকল স্ট্রিটলাইটটিও উদ্যোগ নিয়ে রাতারাতি সারিয়ে ফেলা হয়।
সন্তোষ প্রকাশ করে কবীর সুমন বলেন, নতুন প্রশাসন এসে সত্যিই মাটিতে নেমে কাজ করছে। পাড়ায় পাড়ায় পরিষেবা পৌঁছচ্ছে, রাস্তায় জঞ্জাল জমছে না, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জল পাওয়া যাচ্ছে। এই বয়সে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে এর চেয়ে বেশি আর কী-ই বা চাওয়ার থাকতে পারে! নিজের স্বস্তির কথা জানাতে গিয়ে অন্যান্য সহনাগরিকদেরও এই ইতিবাচক পরিবর্তনের সাক্ষী থাকার আহ্বান জানান তিনি।
সুমনের এই স্বীকারোক্তিকে হাতছাড়া করেনি গেরুয়া শিবিরও। বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী সেই ভিডিওবার্তাটি নিজের সমাজমাধ্যমে তুলে ধরে লিখেছেন, মানুষ এই কারণেই পরিবর্তনের রায় দিয়েছিল এবং বিজেপি সরকার সবসময় মানুষের সেবায় দায়বদ্ধ। অতীতে বারবার গেরুয়া রাজনীতির কড়া সমালোচনা করা সুমনের এই উল্টো সুর এখন কলকাতার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক মহলে রীতিমতো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
